শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বড়ুয়া এবং স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি আবু তাহের সহ আরো তিনজনের বিরুদ্ধে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরীর স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ইউনিয়নের সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির ওয়ারিশদের নিয়ে খেলারমাঠের দক্ষিণ পূর্বাংশের ২০ শতক জমির বিরোধ চলে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে। এই বিরোধের জেরে স্থানীয় জনৈক মৃত আব্দুল জলিলের ওয়ারিশগণ এই বছরের গত মাসের ২৫ মে বিজ্ঞ উখিয়া সহকারী জজ আদালত কক্সবাজারে উপস্থিত হয়ে অপর ৪৬৯/২০২১ ইংরেজি একটি মামলা দায়ের করেন।
সেই বিরোধীয় জমিতে স্কুল কমিটি জোরপূর্বক ভৌতকাঠামো নির্মাণ করতে চাইলে উক্ত মামলায় বাদীপক্ষের লোকজন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত কক্সবাজারের বিচারক সায়মা আফরিন হিমা বিগত মাসের ২৭ মে উখিয়ার ইউএনও- এসিল্যান্ড এবং স্কুলের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক ও এডহক কমিটির সদস্য ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৯ জনকে ১০দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন।
সেই আদেশের দশম দিনে গত ৬ জুন রবিবার স্কুলের কমিটি আবু তাহের, মকবুল হোসেন সরকার, আব্দুল মোস্তাফা ও (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক তাদের আইনজীবির মাধ্যমে লিখিত জবাব প্রদান করেন। সেই জবাবের কপি বাদী পক্ষ তাদের আইনজীবি মারফতে সংগ্রহ করেন।
সেখানে দেখা যায়, জনৈক আব্দুল জলিলের ২ পুত্র এবং ২ কন্যা সন্তান জালিয়াপালং ইউনিয়নে বর্তমানে জীবিত আছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ সনদের সন্ধান মিলে। সেটা নিয়ে সেই আব্দুল জলিলের মূল ওয়ারিশগণ বাস্তব ঘটনা অনুসন্ধান করলে স্কুলের কমিটি ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ স্বাক্ষর জালিয়াতির নানা অভিযোগ উঠে।
মামলার বাদী পক্ষের শামশুল আলম অভিযোগ করে বলেন, এই ওয়ারিশ সনদের বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হলে সাথে সাথে চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করে সেটি তাঁর কাছে পাঠালে তিনি আমাদের বলেন, এই ধরণের কোন ওয়ারিশ সনদ আমি দেয়নি এবং ওখানে যে স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে সেটিও আমার নয়।
যে চারজন- ইসহাক আহমদ, গুরা মিয়া, জহুরা খাতুন, রহিমা খাতুনের নামীয় ৭-৩-২০২১ ইংরেজি তারিখের যে ওয়ারিশ আব্দুল জলিলের বলে তারা আমার নাম দিয়ে ভূয়া ওয়ারিশ সনদ লিখেছে সে গুলো আমি জীবনেও দেখিনি এবং কারো থেকে শুনিনি যে তারা দুনিয়াতে এসেছে এবং জীবিত আছে। এটা বড় একটা ষড়যন্ত্র আমার বিরুদ্ধে।
জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী ওয়ারিশ সনদে ব্যবহারিত স্বাক্ষরটি তার নয় বলে দাবী করেন।
এছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বড়ুয়া এবং আবু তাহের সহ সকলে মিলে স্কুলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জিজিয়া স্কুল থেকে সোনারপাড়া স্কুলের নাম করণ সভার একটি সভায় ২০-০৮-১৯৮৫ সালের ভূয়া একটি রেজুল্যাশন রাতারাতি বানিয়ে ৪/৫ জন মৃত ব্যক্তিদের স্বাক্ষরও বানিয়ে তারা কয়েজনে মিলে সাক্ষর দিয়ে আরো একটি কাগজ জমা দেন বলেও উক্ত মামলার বাদী পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেছেন।
তাদের দাবী, সোনারপাড়া জুনিয়র স্কুলের সরকারী গেজেট প্রকাশিত হয় ০৩-০৭-১৯৭৪ ইংরেজিতে। আর তার নাম পরিবর্তন করেছে ২০-৮-১৯৮৫ সালে এসে। একটি কাগজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ, আব্দুল মন্নান, সফিউল আলম মাস্টার, জাকের হোসন মাস্টার, এজহার নবী মাস্টার, লোকমান হাকিম, শফিউল করিম, নুর মোহাম্মদ চৌধুরী।
বাদীপক্ষের লোকজন দাবী করে বলেন, রেজুল্যাশনে উল্লেখিত লোকদের ২/৩জন ছাড়া সকলে মৃত এবং এদের স্বাক্ষর তারা সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে আদালতে জমা করেছে।
এ বিষয়ে সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ওয়ারিশ সনদটি হয়তো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু প্রধান শিক্ষকই ভালো করে বলতে পারবেন।
প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মিলন কুমার বড়ুয়া বলেন, স্কুলের বিষয়টি এখন আদালতে মামলা পর্যায়ে গিয়েছে। ওয়ারিশ সনদটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজেই দিয়েছেন। এখন যদি তাদের আইনজীবি আদালতে এটি ভুঁয়া বলে প্রমাণ করতে পারে বিচারক যা শাস্তি দেবেন দেবে।
