সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো- রংপুরের পীরগঞ্জে পুত্রবধুর সাথে পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় লাশ হলো শ্বাশুড়ি পোশাগী বেগম।
গত রোববার (৩০ মে) উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ মধ্য পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এই ঘটনায় শ্বশুর কফিল উদ্দিনকে আটক করে সোমবার জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
মামলা ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদ মধ্যপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের সাথে প্রায় ৪০ বছর আগে একই ইউনিয়নের পানেয়া গ্রামের পোশাগী বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ২ ছেলে-মেয়ের জন্ম হয়। শ্বশুর কফিলের ছেলে বহুরুল ইসলাম (৩৫) তার স্ত্রী মনিরা বেগমকে বাড়ীতে রেখে প্রায় ১০ বছর ধরে রাজধানী ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। মাঝে মধ্যে বাড়ীতে আসা-যাওয়া করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছেলে বহুরুল দীর্ঘদিন বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে শ্বশুর কফিল উদ্দীন তার পুত্রবধু মনিরার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার শালিশে কফিল ঘটনার সত্যতা স্বীকারও করে।
এ ব্যাপারে ছেলে বহুরুলকে তার মা পোশাগী বেগমসহ প্রতিবেশিরা এ ঘটনা অবগত করলেও সে তার বাবার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এক পর্যায়ে গত ২৭ মে গভীর রাতে কফিল তার পুত্রবধুর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসময় শ্বাশুড়ি পোশাগী বেগম তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলে। এতে বাঁধা দেয়ায় কফিল তার স্ত্রী পোশাগীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় বাড়িতে চিকিৎসাধী অবস্থায় গত রোববার বিকেলে পোশাগী মারা যায়।
এ ঘটনায় পোশাগীর ছোট ভাই মীর মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে তার ভগ্নীপতি কফিল, ভাগনে বউ মনিরা, ভাগনে বহুরুলকে আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, মামলার প্রধান আসামি শ্বশুর কফিল উদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা চলছে। লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
