অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বাল্য বিবাহের ছড়াছড়ি। এক শ্রেণির দালাল ও ভূয়া কাজীরা নিজেরাই সীল তৈরি করে কাবিননামার নকল বইয়ে দেধারছে চলছে বাল্য বিবাহের রেজিষ্ট্রি করছেন।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও ঘর পালানো প্রেমিক-প্রেমিকা এবং পরকীয়ায় আসক্তদের বিয়ে করিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা সদর কোর্ট চত্বর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড ওই ওয়ার্ডের তালিকাভূক্ত মুসলিম বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন কাজী ইউসুফ আলী।
কিন্তু আদালত চত্বরে শাহীন কাজী, মো. কায়ছার, বাজিতপুরের কদ্দুছ মিয়া, সাইফুল্লা কাজী, আব্দুস ছামাদ, রুহুল আমিন, আকরাম, হামিদ মিয়া কাজী না হয়েও দেধারছে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করে যাচ্ছেন টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কোর্ট চত্বরে কাজীদের বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূয়া জন্মসনদ তৈরি করে নকল কাবিননামায় জাল সীল স্বাক্ষর দিয়ে বিয়ে ও তালাক রেজিষ্ট্রি করে আসছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে প্রাপ্তবয়স্ক বানিয়ে এবং ব্যাকডেটে তালাক ও বিয়ে নিবন্ধন করে আইনকে ফাঁকি দেয়ার প্রয়াস পাচ্ছেন।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও ঘর পালানো প্রেমিক-প্রেমিকা এবং পরকীয়া প্রেমে আসক্তে জড়িতরা কোর্ট চত্বরে এলেই ওই দালালরা নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে হাত করে নেয়। পরে প্রয়োজন মাফিক নকল কাবিননামা, তালাকনামা এবং বয়স প্রমানের এফিডেভিটের ঘোষনা করে দেয়।
ফলে জেলায় সংক্রামক ব্যধির মত অবাধে হচ্ছে বাল্য বিয়ে এবং পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ে। এতে করে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন আতঙ্কে রয়েছে, তেমনি পরকীয়ার প্রভাবে প্রবাসিদের সংসারও ভেঙ্গে যাচ্ছে দেধারছে। অনেক সময় প্রবাসিদের স্ত্রীরা বিদেশে স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এবং সন্তান রেখেই ঘর বাধছেন পরকীয়া প্রেমিকের সাথে।
প্রধানমন্ত্রীর বাল্য বিবাহের প্রতি কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এর তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই চক্রটি কোর্ট চত্বরে প্রতিনিয়তই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এ অপকর্ম।
ভূক্তভোগি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাজিতপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমার মেয়েটা সবেমাত্র নবম শ্রেণির ছাত্রী। আমাদের না জানিয়ে আদালত চত্বরে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আমার একমাত্র মেয়ে এহেন কাজে পরিবারের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মাহফুজুর রহমান বলেন, জেলার কাজীদের তালিকা অনুযায়ী ১ নং ওয়ার্ডের কাজী আব্দুস ছামাদ। বাকি কাজীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ওয়ার্ডে নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী ব্যতিত অন্যান্য কাজীদের বিয়ে, তালাক নিবন্ধন বেআইনী।
