সাংবাদিক রোজিনাকে ঘসেটি বেগমের সঙ্গে তুলনা

নজর২৪ ডেস্ক- সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ভূমিকাকে ইতিহাসের খলনায়ক ঘসেটি বেগমের সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২০ মে) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন হিরণ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানিতে একথা বলেন।

 

রোজিনা ইসলামের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এহেসানুল হক সমাজী, প্রশান্ত কুমার কর্মকার, ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, আমিনুল গণি টিটো প্রমুখ আইনজীবী জামিন শুনানি করেন।

 

জামিন শুনানিতে এহসানুল হক সমাজী বলেন যে, রোজিনা ইসলামের কাছ থেকে কি ডকুমেন্টস জব্দ করা হয়েছে তার কোনো বর্ণনা নেই এজাহারে। তার কাছ থেকে কোনো ডকুমেন্টস উদ্ধার বা জব্দ করা হয়নি। এজাহারে বলা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস। কিন্তু তার কোনো বর্ণনা দেওয়া নেই। তাই অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী ১৯২৩ সালের ৩ ধারা এ ঘটনার সঙ্গে যায় না। এটা একটি জামিনযোগ্য মামলা। তিনি একজন নারী, অসুস্থ মহিলা। তাই তাকে জামিন দেওয়া হোক। তিনি জামিনের কোনো অপব্যবহার করবেন না।

 

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি সাজানো, মিথ্যা এবং বানোয়াট। বিগত ৫০ বছরের মধ্যে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা হয়নি।

 

আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো বলেন, রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লেখালেখি ও ভ্যাকসিনের বিষয়ে জাতীয়ভাবে তুলে ধরার কারণে তাকে শত্রু মনে করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সব কর্মকর্তারা। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তাই যে কোনো শর্তে রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করা হোক।

 

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, রোজিনা ইসলামের কাছ থেকে কি ডকুমেন্টস উদ্ধার করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। যাই হোক তিনি অসুস্থ, তাই বিশেষভাবে অনুরোধ করছি তার জামিন বিবেচনা করার জন্য।

 

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন হিরণ বলেন, পলাশী যুদ্ধের সময় ঘসেটি বেগমরা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র করেছিল। এবার রোজিনা বেগম গোপন তথ্য পাচার করে একইভাবে সরকারকে উৎখাত করতে ষড়যন্ত্র করেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হীরণ যুক্তি উপস্থাপন করে আদালতকে বলেন, এই মামলাটি অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টসহ দণ্ডবিধির ৩৭৯ এবং ৪১১ ধারার মামলা। যেগুলো সমস্ত জামিন অযোগ্য ধারার মামলা। অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ এবং ৫ ধারায় ১৪ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজার বিধান রয়েছে। আর যেহেতু এই আসামি করোনা সংক্রান্ত বিশেষ গোপন নথি কোনো অনুমতি ছাড়াই চুরি করে সেগুলো তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রেখেছেন এবং সেখান থেকে ছবি তুলে নিয়েছেন। সেই কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সঙ্গত কারণেই তিনি এই ধারাগুলোর অপরাধ করেছেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই করোনার সময়ে দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যখন ভারত থেকে করোনার টিকা আসা বন্ধ হয়ে গেছে, ঠিক তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চীন এবং রাশিয়া থেকে টিকা আনার জন্য। এ নিয়ে মন্ত্রিসভায় যখন সিদ্ধান্ত হয় সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ছিল। ঠিক সেই মুহুর্তে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য, দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে দেয়ার জন্য সুকৌশলে আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করেছে।

 

সেজন্য আমরা বিজ্ঞ আদালতকে বলেছি, এই মামলাটি যেহেতু তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই মামলা নিষ্পত্তি হওয়া আগ পর্যন্ত, তথ্য উদঘাটন হওয়ার আগ পর্যন্ত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে রাখার জন্য আবেদন করেছি।

 

তিনি বলেন, আমরা ভিডিওতে দেখেছি রোজিনা ইসলাম তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং মুচলেকা দিতে চেয়েছেন। সেই ভিডিওটি আমরা আদালতে শিগগিরই উপস্থাপন করবো। আদালত সেগুলো বিবেচনা করে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি দাখিল করতে সময় চেয়ে জামিন শুনানি পেছানোর আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন হিরণ।

 

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, সাক্ষ্য আইনের ২৪ ও ২৫ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কারও কাছে দেওয়া বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আসামি পুলিশ বা অন্য কারও কাছে কোনো বক্তব্য আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ভিডিও তার জামিন পাওয়া বা না পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গ্রহণযোগ্য বিষয় না। রাষ্ট্রপক্ষ এটা দাখিলের জন্য সময় চাইতে পারে না, তদন্তকালে এ ধরনের ডকুমেন্টস কেবল তদন্ত কর্মকর্তা দাখিল করতে পারেন।

 

এরপর শুনানি শেষে আদালত আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। বেলা চারটার দিকে আদালত আদেশের জন্য রোববার (২৩ মে) দিন ধার্য করেন। ওইদিন মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে আদেশ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *