নজর২৪, ঢাকা- দেশের বিশেষজ্ঞরা মালিক-শ্রমিক আর জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে আমরা বিশেষজ্ঞ, সরকারের উচিত আমাদের পরামর্শ নেওয়া’
শনিবার (০৮ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সব ধরনের গণপরিবহন চালু করে ৫ দফা দাবি পেশ করে মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। সম্মেলনে মূল লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান ওরফে রাঙা, মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ (শ্যামলী পরিবহনের মালিক) ও সাধারণ সম্পাদক আবু রাহয়হান।
এসময়য় শাজাহান খান বলেন, ‘পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি পালন নিশ্চিতের দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু এই দায়িত্ব আমাদের দেওয়ার আগে সরকারের দায়িত্ব এই দায়িত্বগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া। শুধু বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে করেন। তারা মাঠের সেন্টিমেন্ট, মালিক শ্রমিকের সেন্টিমেন্ট বুঝেন না, জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝেন না। ফেরির অবস্থাটা কী একবার চিন্তা করেছেন। ফেরিতে এখন যে উপচে পড়া ভিড় যাচ্ছে সেখানে কি ঝুঁকি বাড়ছে না? বিশেষজ্ঞরা কি এটা বিবেচনা করেছেন? লকডাউনে এই শ্রমজীবী মানুষের কী হবে বিশেষজ্ঞরা চিন্তা করেছেন? কি তাদের দিতে হবে না হবে সেটা বিবেচনা করে কি সুপারিশ দিয়েছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা সুপারিশ করেছেন লকডাউনের সময় সব বন্ধ থাকবে। করেন সমস্যা নাই, প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট অনুভব করেন। মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলে জেলেদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। গতবার পরিবহন শ্রমিকদের জন্য কিছুটা হলেও ব্যবস্থা তিনি করেছেন। এবারও কেন দিয়ে দেওয়া হলো না? ঈদের সময় কী হতে পারে না পারে বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট সবাই বুঝে, কিন্তু তা তো বিশেষজ্ঞরা একবারও বিবেচনায় নিলেন না। আমি মনে করি এই সেক্টরে ওই বিশেষজ্ঞদের চাইতে এখানে যারা বসে আছি আমরা বিশেষজ্ঞ, আমাদের মতামত নিলে আরও ভালো হবে।’
দূরপাল্লার বাস চালুর বিষয়ে সরকার কোনো আশ্বাস দিচ্ছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি দেননি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলেছেন। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো ফলাফল পাইনি।’
কয়েক দিন ধরে ফেরি ও দূরপাল্লার কিছু বাস কীভাবে চলছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কী করব।’
এসময়য় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চালুর করার দাবি জানায় পরিবহন মালিক শ্রমিক সমিতি। অন্যথায় ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজ শেষে সারা দেশের মালিক–শ্রমিকেরা নিজ নিজ এলাকায় বাস ও ট্রাক টার্মিনালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। এরপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
