নজর২৪, ঢাকা- নরেন্দ্র মোদীবিরোধী বিক্ষোভ থেকে সংঘাতের মামলায় শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারে ক্ষোভ জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ছাত্রদের মুক্তি দিন, নয় আমাকেও গ্রেপ্তার করুন।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক সমাজ’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচিতে একথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ।
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচিতে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আটককৃত ওই ছাত্ররা কি কাউকে খুন করেছে, বলৎকার করেছে, চাঁদাবাজি বা ছিনতাই করেছে। তারা মানুষের অধিকারের কথা বলেছে, যৌক্তিক প্রতিবাদ করেছে। কথা বলা যদি অপরাধ হয় আমিও সেই একই অপরাধে অপরাধী। আমাকেও গ্রেফতার করুন। ১৯৫২ সালে ছাত্ররা অধিকারের কথা বলেছে বলেই আমরা ভাষার অধিকার পেয়েছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। অনেক স্বৈরশাসক সরকারের পতন হয়েছে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খুবই দুঃখ লাগে একটা সরকার কত দুর্বল হলে কিছু ছাত্রের ভয়ে কাঁপতে হয়। তাদের গ্রেফতার তো করেছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। রিমান্ড খুবই ফালতু জিনিস, এখানে নির্যাতন করা ছাড়া কোন কাজ নেই। যারা প্রশ্ন করে তাদের নিজেদেরও কোন ধারণায় নেই, দেশে কি হচ্ছে। আমরা কি চাই, কেন চাই তার যৌক্তিকতা আছে কিনা।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কি করছেন? ৫১ জনের মধ্যে পাঁচজন কাশেমপুর কারাগারে বন্ধুদের দেখতে গিয়েছিল। সেখানে তাদের আটক করা হয়। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে ভয় এবং ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়। ছাত্রদেরকে আজকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এদেশের ছাত্র সমাজ এর জবাব দিবে। এমন অন্যায় চলতে থাকলে আপনাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অতি দ্রুত উৎখাত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু বলেন, মোদির আগমনের প্রতিবাদ জানিয়েছি। আপনারা দেখেছেন মতিঝিলে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কিভাবে পুলিশ হামলা করেছে, ছাত্রদের আটক করেছে। গ্রেফতার করে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা বাইরে আছে তাদের আতঙ্কে রাখা হচ্ছে, ভয় ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে। যেসব পুলিশ ছাত্র নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছে, সরকার তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করছে। আমরা অন্যায়, অত্যাচের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, রাষ্ট্র চিন্তার সদস্য এডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান প্রমুখ।
