অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইল পৌরসভার দক্ষিণ কলেজ পাড়া এলাকার বিমল চৌহানের মেয়ে প্রিয়া চৌহান (১৬) আত্মহত্যার চেষ্টা করে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
জানা গেছে, বিমল চৌহানের মেয়ে প্রিয়া চৌহানের সাথে পার্শ্ববর্তী কান্দাপাড়া এলাকার প্রদীপ হরিজনের ছেলে প্রভাত হরিজনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক। এরই ধারাবাহিকতায় গত (২ এপ্রিল) প্রভাত হরিজনের সাথে কিশোরী প্রিয়া চৌহান পালিয়ে গিয়ে কোর্টে হলফনামা এফিডেভিট করে এবং শাঁখা সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে করে।
ঘটনা জানাজানি হলে কিশোরী প্রিয়া চৌহানের বয়স ১৮ বছর না হওয়ায়, তার বাবা-মা পুলিশের সহযোগিতায়, সামাজিক মাতব্বর নিয়ে দেন-দরবার করে একাধিকবার কিশোরী প্রিয়া চৌহানকে তাদের কাছে ফিরিয়ে আনে।
তবে দেন-দরবার করে ফিরিয়ে আনলেও প্রিয়া চৌহান তার বাবা-মায়ের কাছে না থেকে। পরবর্তীতে আবারও প্রভাত হরিজনের কাছে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে গত (২৭ এপ্রিল) মঙ্গলবার দুপুরে, দুই পক্ষের মাতাব্বর নিয়ে সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়। সেখানে ছেলের বাবা এবং মেয়ের বাবার মতামতের ভিত্তিতেই কিশোরীকে প্রভাত হরিজনের বাড়িতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
ঐদিন বিকেলে প্রিয়া চৌহানের বাবা ও মা কাজলি চৌহান একজন মানবাধিকার কর্মীর সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ উল্লেখ করে টাঙ্গাইলের সদরের সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলাম কে অবগত করেন। মেয়েটির বয়স ১৮ না হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলাম বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মেয়েটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিয়ে আসেন।
পরে আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে প্রিয়া চৌহান, টয়লেট ক্লিনার হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে চিকিৎসার জন্য কিশোরী প্রিয়া চৌহানের বাবা-মা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রিয়া চৌহান এর বর্ণনা অনুসারে সে হারপিক পান করেছে, আমরা সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতেছি।
টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলামের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে আমরা সেখানে দ্রুত চলে যাই এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মেয়েটিকে তার বাবা মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়।
এ বিষযে কিশোরীর বাবা বিমল চৌহান বলেন, আমার মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার মত অনুসারে আমরা তাকে বিয়ে দেব।
