নজর২৪, ঢাকা- ভুল থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হলে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, এখন সারা দেশে ৭ হাজার রোগী করোনা চিকিৎসা নিচ্ছেন। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায়না। রোগী বাড়লে হাসপাতালে জায়গা থাকবে না। মানুষ চিকিৎসা পাবে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় মহাখালীর বিসিপিএস প্রাঙ্গণে ‘ভ্যাকসিন ইস্যু ও সমসাময়িক নানা বিষয়াদি’ নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় করোনা রোগীর জন্য আড়াই হাজার বেড ছিল। এখন সাত হাজার বেড আছে। এটা আমরা রাতারাতি করতে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি হাসপাতালেই করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। টিবি হাসপাতাল, গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটেও করোনা চিকিৎসা হচ্ছে।
চলমান লকডাউন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লকডাউনই একমাত্র উপায় নয়। লকডাউন দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ট্রান্সমিশন (সংক্রমণ) কমিয়েছে। তবে লকডাউনের নেতিবাচক দিকও আছে। এতে দারিদ্র্য ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যায়।
লকডাউনের উপকার পাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রমণ ২৪ থেকে ১৩-তে নেমে এসেছে। লকডাউনের বড় ফল পেয়েছি। কিন্তু লকডাউন তো সব সময় হতে পারে না। মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজ করা, স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং অনুষ্ঠানে না যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি উপায় মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ (দ্বিতীয় ঢেউ)’ কীভাবে আসলো সেটা জানা উচিত। না হলে আমরা ‘থার্ড ওয়েভের’ দিকে যাবো।
জাহিদ মালেক বলেন, টিকা নেওয়ার পর আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানলাম না। পর্যটনে গেলাম, বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলাম। হাজার হাজার লোক বিদেশ থেকে আসা-যাওয়া করলো। তারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। এজন্য করোনা বেড়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আবারও ভুল করলে, ভুলের মাশুল দিতে হবে যেটা এখন দিচ্ছি। প্রতিদিন একশোর বেশি লোক মারা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য দেশের ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই। আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে ঠিকভাবে চলতে পারি।
