বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানসহ ৬ দেশ, রাখা হয়নি ভারতকে

নজর২৪ ডেস্ক- করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রাপ্যতা ও চলমান সংকট নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। তবে এতে রাখা হয়নি ভারতকে।

 

মঙ্গলবার যেকোনো সময়ে ভার্চুয়ালি এই বৈঠক শুরু হবে। এতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নেতৃত্ব দেবেন।

 

অপর পাঁচজন হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হানিফ আতমার, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাকদুম শাহ মোহাম্মদ কুরেশি, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীনেশ গুনাবর্ধনে ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদ্বীপ গাওয়ালি।

 

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গহি একদিনের সফরে ঢাকায় পা রাখার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এ ঘোষণা এলো।

 

চীনের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের টিকার মজুত তৈরির চেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক হচ্ছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র।

 

মন্ত্রণালয় বলছে, ভারত নিজেই এখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে জর্জরিত। টিকার জন্য বাংলাদেশ আগাম টাকা দিলেও ভারত চালান পাঠাতে পারছে না।

 

এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে দ্রুত টিকা পাঠানোর অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি বিকল্প উৎসর খোঁজেও অগ্রসর হয়েছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, করোনা দীর্ঘমেয়াদে থাকতে পারে আঁচ করে চীনের উদ্যোগে ছয় দেশের টিকার মজুত সৃষ্টির পথেও হাঁটছে বাংলাদেশ।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীনের উদ্যোগে চালু হতে যাওয়া এই প্ল্যাটফর্মের নাম ‘ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি ফর কোভিড ফর সাউথ এশিয়া’। মূলত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের টিকা দ্রুত সরবরাহ করার লক্ষ্য নিয়ে একটি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ এই কাঠামোতে যোগ দিতে ‘নীতিগতভাবে সম্মতি’ জানিয়েছে।

 

এই জোটের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন দেশে হঠাৎ হঠাৎ ভ্যাকসিনের ঘাটতি দেখা যায়। তখন তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টিকার দরকার হতে পারে। এজন্য চীন এমন একটি স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি তৈরি করতে চায়, যাতে জরুরি সময়ে এই স্টোরেজ থেকে টিকা সরবরাহ করে প্রয়োজন মেটানো যায়।

 

আপাতত ভারতকে বাদ দিয়ে ইমার্জেন্সি কোভিড ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি তৈরি করার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনও জানি না, কারণ প্রস্তাবটি এসেছে চীনে পক্ষ থেকে এবং তারাই এ বিষয়ে বলতে পারবে।

 

গত ১৫ এপ্রিল চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব আসে। ২২ এপ্রিল পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে চীনের ভাইস মিনিস্টারের বৈঠক হয়। এ সংক্রান্ত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *