নজর২৪, ঢাকা- সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অবরুদ্ধের পর হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ছাড়িয়ে নিতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
তাদের তাণ্ডবের সময় পুলিশ নির্লিপ্ত ছিল অভিযোগ উঠায় সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ লাইন্সে। সেই ওসি রফিকুল ইসলামকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আরও পড়ুন-
স্ত্রীসহ মামুনুল হক অবরুদ্ধ: ওসির পর এবার এডিশনাল এসপিকে বদলী
মামুনুলের বিষয়ে হেফাজতের সিদ্ধান্ত জানালেন বাবুনগরী
বাবুনগরীসহ হেফাজতের আরও ২৩ নেতা পুলিশের নজরদারিতে
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রফিকুলের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বিধি মোতাবেক অবসরজনিত সকল সুবিধা পাবেন।
৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যান। পরে সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। মামুনুল হকের দাবি তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। হেফাজত কর্মীরা নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করে। রয়্যাল রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়।
পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। ক্ষমতাসীন দল ও তার সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় কার্যালয়েও হামলা হয়। হামলা হয় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরেও হামলা ভাংচুর করা হয়।
হেফাজতের এমন তাণ্ডবের বিরুদ্ধে পুলিশের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশের নির্লিপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। ঘটনার পরদিন, ৪ এপ্রিল ওসি রফিকুলকে বদলি করে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হিসেবে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়।
নাম না প্রকাশে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ডে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার জন্যই ওসিকে বদলি করা বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন-
হেফাজতে ইসলাম দমনে সরকারের কঠোর নির্দেশনা
এলোমেলো হেফাজতে ইসলাম, এখনই ‘কর্মসূচি নয়’
এবার কঠোর অবস্থানে সরকার, হেফাজত নেতা-কর্মীদের তালিকা করার নির্দেশ
