নজর২৪ ডেস্ক- ধর্মভিক্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক সহিংসতার পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রথম দিকে হেফাজতের নিচের সারির কর্মীরা গ্রেপ্তার হলেও ধীরে ধীরে উপরের সারির নেতারাও গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
হেফাজতের উগ্রতা নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সাড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলছেন, শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েক নেতা নজরদারির মধ্যে আছেন, শিগগিরই তারা গ্রেপ্তার হতে পারেন।
হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক তাণ্ডবে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সবশেষ গত বুধবার গ্রেপ্তার হন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দুই সহকারী মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি ও মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘হেফাজতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আমাদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। হেফাজত নেতারা মুখে এক রকম বলছেন, কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে আরেক রকম। তাদের কথিত আন্দোলন আবার সহিংস রূপ ধারণ করছে। তারা নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এর সুযোগ নিচ্ছে জামাত-শিবির ও বিএনপি কর্মীরা। হেফাজতের আন্দোলনকে পুঁজি করে উগ্রবাদি জঙ্গিরাও ফায়দা নিচ্ছে।’
২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ও সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ডিএমপির মতিঝিল জোনে। মতিঝিল জোনের উপ পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, হেফাজতকে আর ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘মামলার গ্রাউন্ড, মামলায় যা যা অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রতিটি বিষয় তদন্ত করা হবে। তদন্ত করে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে। অপরাধী যেই হোক ছাড় দেয়া হবে না, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।’
হেফাজতের বিরুদ্ধে পুরানো মামলাগুলো সচলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্তাধীন মামলার বিষয়ে কখনও অগ্রগতি হয় কখনও হয় না। আবার কিছু সময় আসে যখন এসব মামলাকে মনিটর করা হয় ও তরিৎগতিতে নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের মামলাগুলো তদন্তাধীন ছিল, এখন সেগুলো পুনরায় বিবেচনার সময় এসেছে।’
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের তাণ্ডবের পর হেফাজতের বর্তমান আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন তিনি আমাদের কথা দিয়েছিলেন, হেফাজত আর কখনও কোনো সহিংস আন্দোলন করবে না।
‘আরও কিছু বিষয়ে তারা নমনীয় হয়েছিল বলেই তখন তাদের ছাড় দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেনি। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের এখন কঠোর পন্থা অবলম্বন করতে হচ্ছে।’
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে গত ৭ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে আইশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পরিষ্কার নির্দেশনা এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলেও হেফাজত দমনে মাঠ পর্যায়ের অভিযানে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র্যাবকে নেতৃত্ব দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।’
