ঢাকা    ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীসহ মামুনুল হক অবরুদ্ধ: ওসির পর এবার এডিশনাল এসপিকে বদলী

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২১

স্ত্রীসহ মামুনুল হক অবরুদ্ধ: ওসির পর এবার এডিশনাল এসপিকে বদলী

নজর২৪, নারায়ণগঞ্জ- সোনারগাঁওয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে রিসোর্টে অবরুদ্ধ করার ঘটনার পর ওই রাতেই সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এবার নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি এম মোশাররফ হোসেনকে বদলী করা হয়েছে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এই বদলীকে ‘রুটিন মোতাবেক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত ৫ই এপ্রিল রাতে তাকে খুলনা পুলিশ রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

 

গত ৩ এপ্রিল রাতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর ব্যাপক ভাঙচুর করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

 

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করে রাতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা।

 

ওই সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিব মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি এম মোশাররফ হোসেন।

 

ঘটনার পর তার হেফাজত থেকে মামুনুল হককে নিয়ে যায় হেফাজতকর্মীরা। তবে তিনি সে সময় দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা যাতে অবনতি না হয় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মামুনুল হককে হেফাজতের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন-

মামুনুল হককে বেড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন হাসান জামিল

 

নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে ঘুরতে বেড়াতে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন সংগঠনটির আরেক নেতা ইসলামী বক্তা হাসান জামিল।

 

শনিবার (৩ এপ্রিল) রাত পৌনে নয়টার দিকে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসান জামিল এ কথা জানান। তিনি এও জানান, আজ তিনি সুনামগঞ্জে রয়েছেন বলে নারায়ণগঞ্জে আসতে পারেননি।

 

 

হেফাজতের নেতা হাসান জামিল লিখেন, ‘কদিন থেকেই বলছিলেন, একদম হাঁপিয়ে গেছি।’ পরামর্শ দিয়েছিলাম কোথাও থেকে বেড়িয়ে আসেন। কিছু সময় নিরিবিলি কাটান। তিনি তাই করেছেন।

 

সোনারগাঁয়ের এই হোটেলটা পছন্দের, হোটেলের সব স্টাফ উনাকে ভালোবাসেন! নিরিবিলি আর নিরাপদ ভেবেই অবকাশ যাপনে গিয়েছেন ২য় ভাবিকে নিয়ে। দুর্ভাগ্য, শিয়াল পালের হাতে পড়েছেন! যে বিষয়টা স্ত্রী, আপনজন, বন্ধুমহল সবাই জানেন তা নিয়ে ওদের কী তুঘলকি কাণ্ড! (আছি সুনামগঞ্জ, না হয় সাক্ষী হিসেবে নিজেই হাজির হতাম)।

 

প্রসঙ্গত, শনিবার (৩ মার্চ) সকালে মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা রিসোর্টে ঢুকে ওই নারী সঙ্গীসহ তাকে অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে মামুনুল হককে উদ্ধার করে।

 

পরে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে হেফাজতের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্টে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা তাকে ওই রিসোর্ট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

 

তখন মামুনুল হক দাবি করেন, সঙ্গে থাকা নারীর নাম আমিনা তৈয়ব। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। আমিনাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি।

 

এদিকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হয়ে মামুনুল হক ফেসবুক লাইভে আসেন। এ সময় মামুনুল বলেন, অনেকের মধ্যে আজকের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেক বিভ্রান্তিও হচ্ছে। মূলত আসল ঘটনা জানাতেই আমি ফেসবুক লাইভে এসেছি। আমার সাথে আমার বড় ভাই ও মেজ ভাইও আছেন।

 

মামুনুল হক আরও বলেন, টানা পরিশ্রমের কারণে আমার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল। এ কারণে আজ সেখানে গিয়েছিলাম। সাথে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিল। পুলিশ আমার থেকে যাবতীয় তথ্য নিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাবেক স্ত্রী ছিলেন। তাদের দুটি সন্তানও আছে। এরপর পারিবারিকভাবে আমি তাকে বিয়ে করি।