নজর২৪ ডেস্ক- গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিন বিয়ে নিয়ে পরিস্কার কোনো জবাব দিতে পারেননি ফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক।
রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বিফ্রিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, শাজাহান (মামুনুল হক-এর কথিত তৃতীয় স্ত্রীর ভাই) বলছেন, উনি বোনকে খুঁজে পাচ্ছেন না। উনি (মামুনুল হক) বলেছেন, উনি নাকি তাঁকে বিয়ে করেছেন। প্রমাণ আছে কিনা বলতে পারেন নাই, কিন্তু বলছেন বিয়ে করেছেন। তৃতীয় বিয়ে এটা।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, উনাকে আমি এটাও বলেছি যে, আপনি যে পরপর তিনটা বিয়ে করলেন। সোনারগাঁওয়ে যাকে নিয়ে গেলেন, বললেন তাকে বিয়ে করেছেন। আবার স্ত্রীর কাছে বললেন, এটা আরেকজনের স্ত্রী। এটা বললেন কেন? তিনি উত্তর দিলেন না।
আবার তৃতীয় বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, শাজাহান জিডি করেছে উনার বোনকে খুঁজে পাচ্ছেন না। একজনের বোনকে বিয়ে করলে তো তার জানার কথা। সে জানে না কেন? তিনি বলেন, আমি বিয়ে করেছি তাকে।
জিজ্ঞাসা করলাম, বিয়ে করলে আপনার শালা জানবে না কেন? এটা তো অবৈধ কিছু না। এটারও কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে সোমবার (১৯ এপ্রিল) মাওলানা মামুনুল হক-কে আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।
ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা মনে করি, আরো তথ্য বের হবে। এ কারণে আগামীকাল কোর্টে প্রেরণ করে সাত দিনের রিমান্ড চাইবো। রিমান্ড মঞ্জুর হলে উনার কাছ থেকে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।
এর আগে দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামুনুলকে গ্রেফতার করার পর দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সম্প্রতি সারা দেশে হেফাজতের তাণ্ডবে থানা এবং সরকারি অফিসসহ অনেক কিছুই ভাঙচুর হয়েছে। আমাদের মোহাম্মদপুর থানায়ও ভাঙচুরের একটি মামলা ছিল। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করছিলাম।
তদন্তের ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ২০২০ সালের এক মামলার সঙ্গে সে জড়িত। এ মামলায় আমরা তাকে জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে পৌনে ১টার দিকে গ্রেফতার করেছি। ওখান থেকে গ্রেফতার করে আমাদের অফিসে নিয়ে এসেছি।’ এ ঘটনার সত্যতা মামুনুল স্বীকার করেছেন বলেও জানান ডিসি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে হেফাজত। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। মামুনুলের বিরুদ্ধে অজস্র মামলা রয়েছে। আমাদের কাছে যে মামলাটি রয়েছে, তাতে আমরা সত্যতা পেয়েছি।’
