সংস্কারের উদ্যোগ নেই কল্যানী হাটের, দুর্ঘটনার শংকা নিয়েই আসে ক্রেতা বিক্রেতারা

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী কল্যানী হাটের ঘরগুলোর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় ঘরের খুঁটি ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। দুর্ঘটনার শংকা নিয়েই এ হাটে আসে ক্রেতা বিক্রেতারা। বেহাল এই ঘরগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

এছাড়াও ইজারা কম হওয়ায় সরকার এ হাটের সংস্কারের উদ্যোগ নেয় না বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কল্যানী হাটে দোকান বসানোর জন্য প্রায় ৬৫ বছর আগে সিমেন্টের খুঁটি, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে টিনের দোচালা তিনটি ঘর নির্মান করা হয়েছিল।

 

তার মধ্যেকার একটি ঘর অনেকদিন আগেই ভেঙ্গে পড়েছে। যে দুইটি ঘর অবশিষ্ট আছে সেগুলোর খুঁটি, কাঠের রুয়া ও পাইড় ভেঙ্গে গেছে। অনেকটাই হেলে পড়েছে ঘর দুটি। সামনের কালবৈশাখী ঝড়ে এ ঘরগুলো দাড়িয়ে থাকবে কিনা এ নিয়ে শংকায় রয়েছে হাটের দোকানীরা। এতে করে যে কোন সময় দুর্ঘনার কবলে পড়তে পারে হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতারা।

 

এ ব্যাপারে জুয়েল নামের এক ক্রেতা বলেন, প্রত্যেক শুক্রবার, রবিবার ও মঙ্গলবার কল্যানী হাট বসে। আমরা প্রত্যেক হাটেই সাংসারিক জিনিসপত্র কিনতে আসি। হাটের ঘরের যে অবস্থা তাতে যেকোন সময় আমরা দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারি।

 

এ প্রসঙ্গে হাটের ইজারাদার মো. ফজলুল হক বলেন, আমি প্রায় ২৯ হাজার টাকা দিয়ে এ হাট ইজারা নিয়েছি। ইজারা নেয়ার আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে ঘর সংস্কারের বিষয়ে কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখনো সংস্কার হয়নি। সামনে আসছে কালবৈশাখী ঝড়ের দিন। যে কোন সময় ঘর দুটি ভেঙ্গে পড়তে পারে।

 

এ হাটে মাছ, গোস্ত, মুদি দোকান, কাঁচা বাজারের পাশাপাশি বাঁশও বিক্রি হয় প্রচুর। তাই হাটের সংস্কার করে আধুনিকায়ন করলে ইজারা বেশী হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে আমি আশা করি।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ইজারা কম বেশী এটা কোন সমস্যা নয়। করোনা ভাইরাসের কারণে হাটে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে দোকান বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে তাই হাটের ঘরগুলো সংস্কার করতে দেরী হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত ওই ঘরগুলো সংস্কার করে দুর্যোগ সহনীয় করে গড়ে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *