মাদ্রাসায় করোনা ভাইরাস আসবে না: আল্লামা বাবুনগরী

নজর২৪, চট্রগ্রাম- মাদ্রাসা-মসজিদে কোরআন হাদিসের আলোচনা হয় বলে এসব স্থানে করোনা আসবে না বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। এ কারণে লকডাউনের নামে রোজায় মসজিদ, মাদ্রাসা বন্ধ না করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

হেফাজতে ইসলামের সদরদপ্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় রোববার এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসে বাবুনগরী এ কথা বলেন।

 

নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বাবুনগরী বলেন, ‘তার প্রমাণ হলো, আল্লাহর রহমতে মাদ্রাসার কোনো ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয় নাই। মাদ্রাসার কোনো বড় হুজুর করোনায় আক্রান্ত হয় নাই। যারা বেশি করোনা থেকে বাঁচতে চায়, করোনা তাদেরকে ধরবে।’

 

জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘লকডাউন দিয়ে আমাদের মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না। মাদ্রাসা, নুরানী, হেফজখানা, কওমি মাদ্রাসায় হাদিস কালাম পড়া হয়, কী জন্য? করোনা না আসার জন্য যেখানে হাদিস কোরআন পাঠ করা হয়, যেখানে হেফজখানার ছাত্ররা কোরআন হাদিস পাঠ করে ইনশাআল্লাহ কোরআনের বরকতে হাদিসের বরকতে করোনা আসবে না।’

 

সভায় বাবুনগরী বলেন, ‘করোনার অজুহাতে দেশের ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করার ষড়যন্ত্র দেশের তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না এবং লকডাউনের নামে শরীয়তবিরোধী কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করা যাবে না।’

 

সভায় বলা হয়, করোনা মহামারি থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, তাসবি পাঠ ও দুআ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং মহান আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার লক্ষ্যে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা সরকারেরই নৈতিক কর্তব্য। তাই পবিত্র মাহে রমজানে হিফজখানা, নূরানি ও মক্তব চালু রাখতে হবে।

 

মসজিদে সুন্নাহ মোতাবেক নামাজ তারাবিহ, ইতিকাফ চলবে। লকডাউনের নামে শরিয়তবিরোধী কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না। যথানিয়মে তাফসির, দাওয়াত ও তালিমের কাজ চালু রাখতে হবে।

 

সভায় দেশের সব মাদ্রাসা ও মসজিদে করোনা মহামারি থেকে মুক্তি ও সমকালীন সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য কুনূতে নাযেলার আমল চালু করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

 

যে কোনো সংকটকালীন হেফাজতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয় সভায়।

 

মামুনুলের বিষয়ে সংগঠনের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে বাবুনগরী বলেন, “আমাদের আজকে কোনো ব্যক্তির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয় নাই এবং কাউকে প্রত্যাহারের কোনো কথা উঠে নাই। অব্যাহতি দেওয়ার কোনো আলোচনা উঠে নাই।”

 

মামুনুলের ওই ঘটনায় যেসব ‘অডিও প্রকাশ পাচ্ছে’ তা নিয়ে এক সাংবাদিক সংগঠনের বক্তব্য জানতে চান।

 

জবাবে হেফাজত আমির বলেন, “এক জওয়াব, এটা উনার ব্যক্তিগত ব্যপার। ব্যস খালাস।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *