সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রাজশাহীর কাটাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া একমাত্র মাইক্রোবাস যাত্রী পাভেল মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রোববার ৪ এপ্রিল দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পাভেল এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
গত ২৬ মার্চ রাজশাহীর কাটাখালীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রংপুরের পীরগঞ্জের ১৭ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় পাভেলের মা-বাবা মারা গেলেও কেবল প্রাণে বেঁচে যায় সে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঞ্চম তলার ১৯ নম্বর নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছে পাভেল।
মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, পাভেলের মাথার আঘাত গুরুতর। তার অবস্থা ভালো নয়। সে এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। হাসপাতাল থেকে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পাভেলের চাচাতো ভাই সাগর মিয়া জানান, ২৬ মার্চ মাইক্রোবাসে জায়গা না হওয়ায় পাভেলের ছোট বোন মোহনা জান্নাতি যায়নি। ডাক্তার বলেছে, পাভেলকে কিছু সময় পরপর নাম ধরে ডাকতে। অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করার পর সে চোখ খুলে তাকালেও কিছু বলতে পারছে না।
রাজশাহী থেকে এখানে আসার পর তার অবস্থার অবনতি হয়েছে বলেও জানান সাগর মিয়া। পাভেলের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। দুর্ঘটনায় পাভেলের বাবা মোখলেছার রহমান ও মা পারভীন বেগমও নিহত হন।
পাভেলের বাড়ি পীরগঞ্জের রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামে। সে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ সকালে একটি মাইক্রোবাস যোগে পীরগঞ্জের কয়েকটি ব্যবসায়ী পরিবারের ১৭ সদস্য রাজশাহীতে বেড়াতে যান। ওইদিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে কাটাখালী থানার সামনে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এসময় মাইক্রোবাসটির (ভুল পথে চলছিল) গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ১৭ জন নিহত হন। শুধু বেঁচে যায় পাভেল। তাকে রাজশাহী মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়
