সংসারে আগুন! বাসায় ফেরেননি মামুনুল হক, সন্তানসহ ‘ঘর ছেড়েছেন’ স্ত্রী

নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনাপ্রবাহের পর হেফাজত নেতা মামুনুল হক তার মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেননি বলে জানিয়েছেন বাসার নিরাপত্তারক্ষী।

 

ফেসবুকে রিসোর্ট কাণ্ডের লাইভ শুরু হওয়ার পর সন্তানসহ সেই বাসা থেকে বের হয়ে যান তার চার সন্তানের জননী স্ত্রী। তারা বাসায় ফেরেননি এখনও।

 

মামুনুলের রিসোর্ট সঙ্গীনির খোঁজও মিলছে না। তিনি মোহাম্মদপুরের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করেন বলে বিষয়টির খোঁজ খবর রাখা নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য মিলেছে। তবে সেই নারীর অবস্থান এখন কোথায়, সেটি জানতে পারেননি তিনিও।

 

মোহাম্মদপুরে যে মাদ্রাসায় মামুনুল হক শিক্ষকতা করেন, সেখানে তিনি গেছেন বলে দাবি করেছেন তার দল খেলাফত মজলিসের এক নেতা। যদিও সেই মাদ্রাসার নিরাপত্তা রক্ষী বলেছেন উল্টো কথা।

 

মামুনুল ঢাকায় থাকেন মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এর এক নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে। সেটির নিরাপত্তা কর্মী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মামুনুল হক সাহেব ওই দিনের ঘটনার পর আর বাসায় আসেননি। উনি বাসায় নেই।’ তিনি এখন কোথায় আছেন- এমন প্রশ্নে ইকবাল বলেন, ‘আমি জানি না। আমি গার্ড আমি এত কিছু বলতে পারব না।’

 

শনিবার রিসোর্টে যাওয়ার দিন সকালে মামুনুল এই বাসা থেকে বের হন একা। ফেসবুকে রিসোর্টকাণ্ডের লাইভ শুরু হওয়ার পর তার ছেলেদেরকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান তার স্ত্রী।

 

রিসোর্ট কাণ্ডের পর স্ত্রী ও ছেলেরাও বাসায় ফেরেননি বলে জানান নিরাপত্তা রক্ষী ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘তিন দিন হলো তারাও কেউ বাসায় নেই। কোথায় গিয়েছেন বলে যাননি।’

 

শনিবার সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে হেফাজত নেতা দাবি করেন ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। যদিও তার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা ঘটনায়। সেই নারীর নাম, শ্বশুরবাড়ি, শ্বশুরের নাম সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে সেই নারীর দেয়া তথ্যের কোনো মিল নেই।

 

মামুনুল বলেছেন, তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম আমেনা তইয়্যেবা। বাড়ি খুলনায়, শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম। তবে সেই নারী জানিয়েছেন তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা, বাবার নাম অলিয়র, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

 

কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর সেই রাতে রিসোর্টে হামলা করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয় হেফাজতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। রাতেই তিনি ঢাকায় ফেরেন।

 

সারা দেশে তোলপাড়ের মধ্যে মামুনুল চার ভাইকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, সেই নারী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাবেক স্ত্রী। পারিবারিকভাবে তারা বিয়ে করেছেন।

 

দুই দিন পর মামুনুলের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় হেফাজত নেতারা জরুরি বৈঠকের পর দাবি করেন, মামুনুল তার দ্বিতীয় বিয়ের যে কথা বলেছেন, সেটি ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ।

 

এদিকে সরজমিনে মামুনুলের সেই মাদ্রাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফটকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আল আমিন বলেন, ‘উনি গত কয়েক দিন মাদ্রাসায় আসেননি। এখন কোথায় আছেন আমি জানি না।’

 

ভেতরে দায়িত্বশীল কেউ আছেন কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভেতরে মাস্টার্স (দাওরায়ে হাদিস) পরীক্ষা চলছে। প্রবেশ নিষেধ রয়েছে।’

 

দল যা বলছে

 

হেফাজত নেতার রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি বলতে পারছি না উনি কোথায় আছেন। আপনি আমাদের দলের আজিজুর রহমান হেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

 

এরপর আজিজুর রহমান যা বলেছেন সেটি জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্যের বিপরীত। খেলাফত মজলিস নেতা বলেন. ‘উনি আজকে মিটিংয়ে ছিলেন। মিটিং মোহাম্মদপুরে রহমানিয়া মাদ্রাসায় হয়েছিল।’

 

নারায়ণগঞ্জ থেকে মামুনুল ফেরেন আলাদা

 

মামুনুল যে নারীকে নিয়ে সোরাগাঁওয়ের রিসোর্টে গিয়েছিলেন, হাঙ্গামার পর তাকে বাদ দিয়ে একা ঢাকায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ শাখার নেতা ফেরদাউসুর রহমান।

 

মামুনুলের ঘনিষ্ঠ মহানগর হেফাজতের এই সভাপতি বলেন, ‘রয়্যাল রিসোর্টে থেকে মামুনুল হক ঢাকার পল্টনে তার বোনের বাড়িতে গেছেন। আমি নিজে তার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে একই গাড়িতে গিয়েছিলাম। এর পর তিনি সেখান থেকে মোহাম্মদপুর জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় যান।’

 

মামুনুল যাকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছেন, তিনি ওই গাড়িতে ছিলেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না তিনি আরেক গাড়িতে গেছেন।’

 

মামুনুলের বাসার দারোয়ান নাকচ করলেও নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের এই নেতার দাবি, মামুনুল ওই রাতে তার মোহাম্মদপুরের বাসায় গিয়েছিলেন।

 

হেফাজত নেতা ও তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী এখন কোথায় আছেন জানতে চাইলে ফেরদাউস বলেন, ‘তাদের পারিবারিক ব্যাপার তো আমি জানি না। তবে তারা দুই জনই ঢাকায় আছেন। এক সঙ্গে আছেন কি না তা জানি না। আর জানলেও আপনাকে বলব না।’

 

সূত্র: নিউজবাংলা২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *