নজর২৪, ঢাকা- স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বায়তুল মোকাররমে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (০৫ এপ্রিল) রাতে পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনসহ কয়েকটি ধারায় মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দফতর সম্পাদক খন্দকার আরিফ-উজ-জামান।
মামলায় মামুনুল হককে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমের দাঙ্গায় অস্ত্র ব্যবহার ও বিস্ফোরণের ঘটনার হুকুমদাতা তিনি।
এই ঘটনার পেছনে হেফাজতের সঙ্গে ‘জামায়াত-শিবির-বিএনপি জঙ্গি’ কর্মীদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এজাহারে হেফাজত ছাড়া অন্য কোনো দলের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার এজাহারে মামুনুল হককে দণ্ডবিধি ১৪৭ ধারায় দাঙ্গা সৃষ্টি করার নির্দেশদাতা বা হুকুমদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার দুই বছরের জেল হতে পারে।
এছাড়া মামলায় তার বিরুদ্ধে ১৪৮ ধারায় দাঙ্গায় অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, ১৪৯ ধারায় অপরাধের জন্য সমাবেশ করার নির্দেশ, ৩২৫ ধারায় ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করার নির্দেশ, ৩২৬ ধারায় অস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত, অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যাচেষ্টার নির্দেশ, ৪২৭ ধারায় আর্থিক ক্ষতিসাধনের হুকুম দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইন যুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি বিস্ফোরণ দ্রব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে গুরুতর আহত বা কোনো সম্পদ বিনষ্ট করে তাহলে তিনি সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করবেন।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে।’
মামলার অপর আসামিরা হলেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মনির, নায়েবে আমির মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নায়েবে আমির মাজেদুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়্যুবী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জসিম উদ্দিন, টঙ্গীর সহ-সাংগঠনিক মাওলানা মাসুদুল করিম, অর্থ সম্পাদক মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়েজী, মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, সহকারী দাওয়া সম্পাদক মাওলানা মুশতাকুন্নবী, ছাত্র ও যুব সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মো. জোবায়ের ও দপ্তর সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মো. তৈয়ব।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে মামুনুল হকের নির্দেশে ১৭ হেফাজত নেতার নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দা, ছোরা, কুড়াল, কিরিচ, হাতুড়ি, তলোয়ার, লাঠিসোটাসহ অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আরিফ-উজ-জামান গুরুতর আহত হন।
