অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার: দীনো বন্ধু প্রামানিক বয়স পঞ্চাশ পার হয়েছে। দীনোবন্ধু প্রামানিক ধর্মান্তর হয়ে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে নাম রেখেছেন দ্বীন ইসলাম। টাকার লোভে এই বয়সে এসেও ধর্ম পরিবর্তন করে তিনি মনোয়ারা সিদ্দিকী নামের এক নারীকে বিয়ে করেন।
সম্প্রতি বিষয়টি বেশ আলোচনায় উঠেছে। বর্তমানে ওই মুসলিম নারীকে অস্বীকার করে পূণরায় হিন্দু ধর্মে চলে যাওয়ায় উভয় ধর্মাবলম্বীদের কাছে তোপের মুখে পড়েছেন আলোচিত এই প্রধান শিক্ষক। এ দিকে ভূক্তভোগী নারী স্ত্রীর অধিকার পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আদালতেরও স্মরণাপন্নও হয়েছেন তিনি।
দীনো বন্ধু টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ২০০১ সালে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন তিনি। ২০১১ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের তৎকালীন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলামের হাত ধরে ধর্মীয় শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদ পাওয়ায় আলোচনায় উঠেন দীনো বন্ধু।
দীনো বন্ধুর বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ভূষন্ডি গ্রামে। পঁচিশ বছর আগে পুস্পিতা প্রামানিকের সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। দুই ছেলে আর দুই মেয়ে সন্তান নিয়ে ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন।
২০১৭ সালে টাঙ্গাইল শহরের একটি মার্কেটে প্রধান শিক্ষক দিনোবন্ধু প্রামানিকের সাথে পরিচয় হয় মনোয়ার সিদ্দিকা নামের এক গৃহবধুর। দিনোবন্ধু প্রামানিক দোকান কেনার কথা বলে কৌশলে ওই গৃহবধুর সাথে সম্পর্ক করেন। সম্পর্কটি এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।
তাদের দুজনের প্রেমের সম্পর্ক হওয়ার সুবাধে ওই গৃহবধুকে ভারতের শিলিগুড়ি দার্জিলিংএ নিয়ে দুইবার চিকিৎসা করান তিনি। এ ছাড়াও একবার কলকাতায় ঘুরতেও নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক। তার বাসার নির্মাণ শ্রমিকদের টাকা দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেন ওই গৃহবধু।
এ ছাড়াও ভারতের শিলিগুড়িতে জায়গা কেনার কথা বলে চার লাখ টাকা ও টাঙ্গাইল শহরের আদি টাঙ্গাইলে বাড়ি নির্মাণের কথা বলে তিন লাখ টাকা এবং ওই গৃহবধুর আগের ঘরের ছেলের নিকট থেকে দুই চেকের মাধ্যমে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ দিকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে ধর্মান্তর হয়ে দীনো বন্ধু হলেন দ্বীন ইসলাম। প্রথম স্ত্রী হিন্দু, দ্বিতীয় স্ত্রী মুসলিম এখন তিনি দীনো বন্ধু নাকি দ্বীন ইসলাম এ নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়েন এই প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রীকে অস্বীকার করায় দ্বিতীয় স্ত্রী প্রধান শিক্ষকের মুসলিম হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন।
গত ২৬ মার্চ বিদ্যালয়ের নিজ অফিসে অবরুদ্ধ হন ওই শিক্ষক। পরে পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়ে উদ্ধার করে।
ধর্মান্তরের এফিডেভিট ও বিয়ের কাবিন নামায় দেখা যায়, ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাজী অফিসে গিয়ে কাজী মাওলানা মুমিনুল ইসলামের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভাতকড়া দূর্গাপুর গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন ও রোমিছা বেগমের তালাকপ্রাপ্তা মেয়ে মনোয়ার সিদ্দিকার সাথে চার লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়।
দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়েতে সম্মতি করতে ওই দিনই ঢাকা নোটারি পাবলিক থেকে এফিডেভিট করে দীনো বন্ধু নাম পরিবর্তন করে দ্বীন ইসলাম হন। বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রীকে অস্বীকার করায় স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে শিক্ষা অফিসার, স্কুল গর্ভনিং বডির সভাপতিসহ বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দ্বিতীয় স্ত্রী।
জমানো টাকা ও স্বর্ণালংকার স্বামীকে দিয়ে সর্বহারা ওই গৃহবধু। শেষ সময়ে স্বামীর অধিকার চান তিনি। পরে ওই গৃহবধু বাদি হয়ে গত ৯ মার্চ টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দীন ইসলামকে আসামী করে যৌতুক বিরোধী মামলা দায়ের করেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের চারিত্রিক অবক্ষয় ও নৈতিকতা নিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমার জমানো সাড়ে সাত লাখ টাকা ও সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণ নিয়েছে আমার স্বামী দীন ইসলাম। বিয়ের পর বেশ কিছুদিন নিয়মিত তিনি খোঁজখবর রাখলেও এখন খোঁজ নিচ্ছেন না। ফোন করলেও রিসিভ করেন না, তার বাড়িতে গিয়ে পাই না।
আমি আমার অধিকারের আদায়ের লক্ষ্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমার জমানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়ায় আমি সর্বশান্ত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, ২৬ মার্চ তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি, আমাকে দেখেই আমার স্বামী দ্বীন ইসলাম দৌড়ে পালানোর সময় স্থানীয়রা তাকে পথরোধ করে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীনো বন্ধু প্রামানিক মুসলিম নারীকে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, খুব শীঘ্রই বিষয়টি মিমাংশা হচ্ছে। সে তার দিক থেকে আইনিভাবে স্ত্রীর অধিকার পেতে প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। দুজনকে ডেকে সমাধান করে দেওয়া হবে।’
