নজর২৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- অনির্দিষ্টকালের জন্য হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব।
মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে এক কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় বক্তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবিও জানান।
গত রোববার হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে প্রেস ক্লাব ভাঙচুর ও সংগঠনটির সভাপতিসহ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে হয় এই সমাবেশ।
এর আগে প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন বলেন, ‘রোববার হরতাল চলাকালে জেলায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি, বেসরকারি অফিস, হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাদরাসা ছাত্র ও হেফাজত ইসলামের হামলায় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার রিয়াজ উদ্দিন জামি, আমাদের নতুন সময় ও আমাদের সময় ডটকমের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আবুল হাসনাত মো. রাফি, ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার মাসুক হৃদয়, একুশে টিভির প্রতিনিধি মীর মোহাম্মদ শাহীন, এটিএন নিউজের ক্যামেরা পারসন সুমন রায়, লাখোকণ্ঠের প্রতিনিধি বাহাদুর আলম, ডেইলি ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধি ইফতেহার রিফাত, এনটিভির ক্যামেরা পারসন সাইফুল ইসলাম আহত হন।
“এছাড়া প্রেসক্লাবে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। তাদের তাণ্ডবে প্রেসক্লাবে অবস্থান করা জেলার অর্ধশত সাংবাদিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একাত্তর টিভির প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন রুমি ও আজকালের খবর প্রতিনিধি মোজাম্মেল চৌধুরী কাজ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন।”
প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পীযূষ কান্তি আচার্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনজুরুল আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম খান শাদাত, সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রেজা প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন।
তারা হামলাকারী অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
