নজর২৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- হেফাজতে ইসলামকে উদ্দেশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, আমার জানাজার নামাজ তারা পড়াক আমি তা চাইনি। আর আপনাদের বলে রাখি, কোনো মুসলমানের জানাজা নামাজ পড়াতে কোনো মৌলভীর সাহেবের প্রয়োজন নাই।
তিনি বলেন, যে কোনো মুসলমান জানাজার নামাজে দাঁড়িয়ে নিয়ত যদি বাংলায়ও করেন, যদি দোয়া না পারেন, তাহলে নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এই মাইয়াতের ক্ষমা প্রার্থনার জন্য জানাজার নামাজে দাঁড়ালাম তাহলেও হবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললাম এই কথা।
গত শুক্র ও রোববার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় তৈরি বিভিন্ন স্থাপনায় বেপরোয় হামলা করে মাদ্রাসার ছাত্র ও তাদের সমর্থকরা। এ নিয়ে সোমবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা মোকতাদির চৌধুরী।
তিনি বলেন, জানাজার নামাজ নিয়ে আপনারা মাথা ঘামাবেন না। এই খানের (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মোল্লারা নাকি বলেছেন, ছাত্রলীগের জানাজা নাকি পড়াবেন না। এখানে ছাত্রলীগের যারা আছে তাদের ঘাবড়ানোর কিছু নাই। তোমাদের জানাজার নামাজ তোমার বাবা-ভাই বা প্রয়োজন হলে আমি জানাজা পড়াব। সুতরাং তোমরা জানাজা নিয়ে চিন্তা করবে না। কিন্তু আমরা হেফাজতির কাছে যাব না এই কথা নিশ্চিত থাকো। হেফাজতিরা আমাদের কাছে আসে।
এমপি মোকতাদির বলেন, ‘২৬ মার্চ দুপুর ৩টার পর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের দ্বারা পুরো শহরে তাণ্ডবলীলা চলেছে। রেলস্টেশনটি ভাঙচুর করে তছনছ করা হয়েছে। যারা ভাঙচুর করেছে তাদের অধিকাংশ কম বয়সী। তাদেরকে ইসলাম কায়েমের প্রলোভন দেখিয়ে কেউ না কেউ এই কাজটি করিয়েছে।
‘তারপর তারা বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে এসে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালসহ অনেকগুলো ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে। তারা পর্যায়ক্রমে ডিসি ও এসপি’র বাংলো, এসপি অফিস, সিভিল সার্জন অফিস, মৎস্য অফিসসহ বেশ কিছু কার্যালয় ধ্বংস করে দিয়েছে।’
অফিসগুলোর সামনে থাকা ফুলের বাগানগুলোও ধ্বংস করে দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দানব ছাড়া কেউ ফুলের বাগান ধ্বংস করতে পারে না।’
২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারিও শহরে মাদ্রাসাছাত্ররা একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে হামলা হয়েছিল তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত আমি চেয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। এটি যদি সঠিক বিভাগীয় তদন্ত হতো তাহলে তার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত। আজকের এই জঘন্য ঘটনা ঘটত না।’
এ তাণ্ডবের ‘বিচার বিভাগীয় তদন্ত’ দাবি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, কারা হামলা করল, কেন হামলা করল, আইনশৃংখলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসন কেন ‘নীরব ভূমিকা’ পালন করল, কেন সদর থানা থেকে ‘অদ্ভুত মাইকিং’ করা হল- তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
প্রশাসনের যেসব বিভাগ ‘বারবার তাগাদা’ দেওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি, তাদের বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী।
