ভাঙ্গায় মাদ্রাসা থেকে মিছিল নিয়ে থানায় হামলা, ৬ পুলিশ আহত

নজর২৪ ডেস্ক- ফরিদপুরের ভাঙ্গায় থানায় হামলা চালিয়েছে একদল লোক। শনিবার দুপুর দুইটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটনা ঘটে। তাদের হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

হামলার সময় ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয় থানার প্রধান ফটক ও অফিস কক্ষ। এ সময় পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ৪৫টি শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানার আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই মো. শহীদুল্লাহ, এসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই আজিজুল রহমান, কনস্টেবল জয়নাল আবেদিন, কনস্টেবল শাহ জালাল ও কনস্টেবল মতিউর রহমান। তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সোয়া দুইটার দিকে জোহরের নামাজের পর ভাঙ্গা থানার কাছে জামিয়া ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম ঈদগাহ মাদ্রাসা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভাঙ্গা বাজার ঘুরে বিশ্বরোড এলাকায় যায়। পরে বিশ্বরোড থেকে ফিরে মিছিলের জনতা ভাঙ্গা থানার কাছে ঈদগাহ মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হয়। মিছিলকারীরা ওই মাঠ থেকে লাঠি ও কাঠের বাটাম সংগ্রহ করে বেলা সোয়া ২টার দিকে ভাঙ্গা থানায় হামলা করে। ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ অতর্কিত এ হামলায় অংশ নেয়।

 

হামলাকারীরা ভাঙ্গা থানার ফটক এবং ভেতরে ঢুকে দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা থানার দিকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটের টুকরা ছুড়তে শুরু করে। এ হামলা ঠেকাতে গিয়ে দুই উপপরিদর্শক (এসআই)সহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ ব্যারাক থেকে পুলিশ এসে শর্টগানের ৪৫টি গুলি ছুড়ে ৪০ মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, হেফাজতে ইসলাম ও চরমোনাই পীরের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো নেতা এ ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেননি। তবে যাঁরা এ আন্দোলন সংঘবদ্ধ করেছেন, তাঁদের পরিচয় আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে পুলিশ মামলা করবে। মামলার পর সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *