বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থন করায় কারাগারে গিয়েছিলাম: মোদি

নজর২৪, ঢাকা- বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমি ও আমার অনেক সহকর্মী বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থন করায় আমি গ্রেপ্তার হয়েছিলাম এবং কারাগারেও গিয়েছিলাম।

 

শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকালে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানমালার সমাপনীতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘আমার রাজনৈতিক জীবনেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে আমি এবং সহকর্মীরা ভারতে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেছিলাম।’’

 

মোদী জানান, তখন তাঁর বয়স সবে ২০-র কোঠায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সত্যাগ্রহ করে জেলে যাওয়ার সুযোগও হয়েছিল তাঁর।

 

এসময় মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, ম্যাডাম শেখ রেহানাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সোনার বাংলার প্রিয় বন্ধুরা, আপনাদের সবার এই স্নেহ আমার জীবনের অন্যতম মূল্যবান মুহূর্ত। আমি আনন্দিত যে, আপনারা আমাকেও বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ পর্বে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’

 

‘আজ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস এবং স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীও। আজ ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের এই গৌরবময় মুহূর্তগুলোতে এবং এই উত্সবে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন’, বলেন তিনি।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই উপলক্ষে আপনাদের ১৩০ কোটিরও বেশি ভারতীয় ভাই-বোন তাদের ভালবাসা এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জন্য। সব ভারতীয়ের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের সবাইকে এবং বাংলাদেশের সব নাগরিককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাই, যিনি সোনার বাংলার স্বপ্নের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। আমাদের ভারতীয়দের জন্য এটি গর্বের বিষয় যে, আমরা শেখ মুজিবুরকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত করার সুযোগ পেয়েছি।’

 

মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এ সময় তিনি বাংলায় বলেন, একসাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলবো না, ভুলবো না।

 

এ সময় তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাংশও বাংলায় তুলে ধরেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের চুম্বক অংশও বাংলায় তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদি।

 

বক্তৃতার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেয়া গান্ধী শান্তি পুরস্কার হস্তান্তর করেন। মোদির হাত থেকে পুরস্কার নেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *