লকডাউন ও সাধারণ ছুটি নিয়ে যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ায় আবারও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে যে গুঞ্জন চলছে সে বিষয়ে কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

 

বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এমবিবিএস পরীক্ষা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কিনা জানতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হলে জানিয়ে দেবে।

 

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো ‘সাধারণ ছুটির’ ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। শুরুতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘ছুটি’ ঘোষণা হলেও পরে তার মেয়াদ বাড়ে কয়েক দফা।

 

গত বছরের সেই ছুটি ঘোষণার খবর গত রবিবার ফেসবুকে ছড়ালে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকেই সেটা নতুন লকডাউনের ঘোষণা বলে ধরে নেন। ফলে ছড়িয়ে পড়ে গুজব। খবরটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরির প্রেক্ষাপটে সোমবার সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। সেখানে করোনাভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউন বা সরকারি ছুটির বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বলে জানানো হয়।

 

বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ‘ছুটি বা লকডাউন ঘোষণার কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এটা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো অর্ডার পাস করে না।’

 

মন্ত্রী বলেন, করোনা বাড়ছে। গতকালও সাড়ে তিন হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। কেন করোনা বাড়ছে সেটি খেয়াল করতে হবে। করোনা বাড়ার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কীভাবে আক্রান্ত হয়েছে সেটি জানার চেষ্টা করেছি। তারা বলছে কেউ কক্সবাজার, কেউ কুয়াকাটা, কেউ বান্দরবান বা পিকনিকে গিয়েছিলেন। তাই সেই জায়গায়গুলো সীমিত করতে হবে। বিয়ে-ওয়াজে জনসংখ্যা সীমিত করতে হবে। আমরা এসব নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।

 

জেলা প্রশাসকদের কাছেও এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা মোবাইল কোর্ট বসাবে, প্রয়োজনে মানুষকে জরিমানাও করবে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেলে করোনা রোগীতে ভরে গেছে, ঢাকার বাইরে অনেকটা ফাঁকা। কিছু নন-কোভিড হাসপাতাল করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আওতায় নিয়ে এসেছি। লালকুঠি হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালসহ কুর্মিটোলা হাসপাতালে বেড বাড়ানোর জন্য বলেছি। টঙ্গী, গাজীপুর, টাঙ্গাইলেও ব্যবস্থা নিয়েছি। এগুলো করতে পারলে ৩ হাজার নতুন বেড সৃষ্টি করতে পারব। এর মধ্যে ১৭শ থেকে ১৮শ নন-কোভিড বেড ছিল। সেসব বেড থেকে রোগী সরিয়ে নিতে হয়েছে। সেখানে করোনা রোগী ভর্তি করতে হয়েছে। আমাদের করোনা রোগী কমাতে হবে।

 

যে হারে সংক্রমিত হচ্ছে, এভাবে হলে অতিরিক্ত ব্যবস্থাও কুলাবে না বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ ও অর্থনীতি ঠিক রাখতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, ঘোরাঘুরি কমাতে হবে। করোনার টিকার কার্যক্রমও চলমান আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *