সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে ফুলজোড় মধ্যপাড়া গ্রামে স্বামী ও শশুরের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিয়ের চার মাসের মাথায় শুক্রবার (৫ মার্চ) বিকেলে স্বামীর বাড়ির শয়ন কক্ষে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে নববধু সুমাইয়া আক্তার মিতুর (২০) লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফুলজোড় মধ্যপাড়া গ্রামের হাকিম খান ওরফে হিটলারের ছেলে জুবায়ের খানের গত চার মাস আগে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার বাবনাপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার মিতুর সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়।
এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং উভয় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করে। পরবর্তীতে ছেলে জুবায়ের খানের পরিবার মেনে নিলেও মিতুর পরিবার মেনে নিতে অস্বীকার করেন।
এতে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ ও পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। এরই একপর্যায়ে ৫ মার্চ শুক্রবার দুপুরের খাবার খেয়ে মিতু তার শয়ন কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘুমাতে যান।
পরবর্তীতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর ঘুম থেকে না ওঠায় স্বামীর পরিবারের লোকজন তার নাম ধরে একাধিকবার ডাকাডাকি করেন।
কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে গৃহবধূ মিতুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেন।
মিতুর স্বামী ও শশুরের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করে মিতুর মা সোনিয়া আক্তার বাদি হয়ে শেরপুর থানায় ৫ মার্চ শুক্রবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শয়নকক্ষের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। তাই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেলেই মৃত্যুর কারণ সঠিক করে বলা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।
