নজর২৪ ডেস্ক- পবিত্র কোরআন শরীফ ও ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জানার জন্য পড়াশুনা করছেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক বন্ধুগণ আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কোরআন শরীফ ও ইসলাম বিষয়ে মুফতি বা আলেমদের সাথে মত বিনিময় করবেন কি না।
সাথে সাথে সাংবাদিক বন্ধুদের নিউজ কাভারের বিষয়ে আমি গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তার উত্তরে তিনি আমাকে বলেন, ‘দৈনিক সকল সংবাদপত্র/টিভি-ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন নিউজ পোর্টালসমূহে পবিত্র কোরআন শরীফ এবং ইসলাম সম্পর্কে কোন সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য দিবেন না।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফ বা ইসলাম নিয়ে গণমাধ্যমে কোন সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য দিবেন না।
এদিকে ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান নেয়ার প্রথম সবকের তার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে প্রশংসায় ভাসেন তিনি। কেউ কেউ ছবিটির ক্যাপশনে লিখেছেন – হৃদয় প্রশান্তি করার মত একটি ছবি।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম এর জেনারেল সেক্রেটারী সৈয়দ শামছুল হুদা লেখেন – “হক্বের পথে ফিরে আসার এই সুন্দর ছবি স্মরণীয় হয়ে থাকুক”
তিনি বিস্তারিত আকারে লেখেন – ড. জাফরুল্লাহ স্যার জীবন সায়াহ্নে এসে এটা অনুভব করতে পারছেন যে, তিনি দ্বীনি বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না। ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেবের সাথে একটি সংলাপে যাওয়ার পর থেকেই উনার ভেতরে এই অনুভুতি জাগ্রত হয়েছে যে, ইসলাম বিষয়ে, কুরআন ও হাদীস বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাননি। আর এ কারণে অনেক সময় লব্দ জ্ঞানের আলোকে ইসলামের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তিনি একজন প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ। যখনই একজন ভালো আলেমের সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছেন তখনই তিনি তাঁর ঘাটতিটা বুঝে নিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পারছি যে, তিনি এই বয়সে এসে কুরআন শিখা শুরু করেছেন। সুন্দরমতো অজু করে এ তেলাওয়াত শুরু করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। এটা বড় একটি খুশির সংবাদ। আমাদের পরম চাওয়া উনাদের মতো বড় বড় ব্যক্তিদের ভেতরে এ অনুভূতি জাগ্রত হওয়া যে, আসলে দ্বীন শিখার কোন ভালো পরিবেশে উনারা যেতে পারেননি। এই অনুভূতিটা উনাদের মধ্যে জাগলে আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো হবে।
দেশে এমন অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী আছে, যারা দ্বীন শিক্ষার কোন পরিবেশে যাওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে এদেরকে অনেকে বিভ্রান্ত করেছে। কেউ কেউ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে জীবনটাই কাটিয়ে দিয়েছে। উনাদের মতো বড় বড় ব্যক্তিদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য যে ধরণের পদ্ধতি আলেমদের একটি ক্ষুদ্র অংশের গ্রহন করার দরকার ছিল সেটা এতদিন হয় নাই। আমরা উনাদের ভুল মন্তব্য দেখে শুধু গালিগালাজই করেছি। উনাদের মতো মহান ব্যক্তিদের ঘাড় ধরে জাহান্নামের টিকিট কনফার্ম করে দেওয়ার আপত্তিকর চেষ্টা করেছি।
যে বা যারাই উনার এই ফিরে আসার পেছনে মেহনত করেছেন, তাদের সকলের প্রতি বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম এর পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ। আপনারা ভালো একটা কাজ করেছেন। এভাবে দেশে আরো অনেক বড় বড় ব্যক্তি আছে, আসলে তারা নাস্তিক, মুরতাদ না। উনারা দ্বীন কাকে বলে জানেনই না। কারণ এর জন্য আমাদের দেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী। একটি কুচক্রী মহল আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দিন দিন দ্বীনি শিক্ষাকে সংকোচিত করে দিচ্ছে। বিতর্কিত করে দিচ্ছে।
এছাড়াও শত শত মানুষ তার ব্যাপারে প্রশংসামূলক মন্তব্য করছেন। জিয়া উল হক নামের একজন সিনিয়র লেখক মন্তব্য করে বলেন – “জীবনের এ পর্যায়ে এসে অসুস্থ শরীর নিয়ে তাঁর এ পদযাত্রা এক ইতিহাস হয়ে থাকবে। কুরআন শিক্ষার এ পদযাত্রায় আজ তাঁকে প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ফেরেশতা তাদের ডানায় ঢেঁকে রাখছেন। সুবহানাল্লাহ। এই মানুষটাকে এখন আমি হিংষা করতে শুরু করেছি। আল্লাহ তোমার এ বান্দাহকে লম্বা হায়াত দাও, তাঁর বিগতজীবনের গুনাহগুলো মাফ করে দাও, তাঁকে তোমার পথে কবুল করে নাও।”
