Home দেশের খবর ঘুষ কেলেংকারীতে ফেঁসে যাচ্ছেন কাঠালিয়া ভূমি কর্মকর্তা !

ঘুষ কেলেংকারীতে ফেঁসে যাচ্ছেন কাঠালিয়া ভূমি কর্মকর্তা !

0
80

নিজেস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঠালিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমিত সাহা বেসরকারি চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে নিকট আত্মীয়, বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতিমাসে ঘুষের লাখ লাখ টাকা প্রেরন করেছে মর্মে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

 

মোবাইল কোর্ট, জমির নামজারী, সই মোহর পর্চা, জলাশয় সংস্কার (খাল ও পুকুর) প্রকল্প, গাছ বিক্রিসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে এ হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেছে বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ন তথ্য-প্রমান পাওয়া গেছে।

 

দীর্ঘ ২২ বছর পর কাঠালিয়ার উপজেলা ভূমি অফিসে গত ০৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে যোগদানের পর মাত্র ৩ মাসে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা ভূমি অফিস ঘুষ-দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছে বলেও স্থানীয় একাধিক সূএ অভিযোগ রয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারী ২০২১ইং তারিখ মশাবুমিয়া গ্রামের জৈনিক মোঃ অলিউল্লাহ আহাদ জনপ্রশসন মন্ত্রণালয়ে সুমিত সাহার ঘুষ বানিজ্যের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে প্রতিকার চেয়ে সচিব বরাবরে একটি অভিযোগ করেন।

 

অপরদিকে একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র ঘেটে দেখা গেছে সুমিত সাহার ভাই রবিন সাহার ওয়ান ব্যাংক লিঃ, হিসাব নম্বর-০১৫২০৫০০২৫৩৭৪ এ গত ২৪ জানুয়ারী ২০২১ তারিখ এক লক্ষ টাকা জমা করা হয়েছে,একই দিনে অন্য এক নিকট আত্মীয় সিবানী সাহা, যমুনা ব্যাংক লিঃ, হিসাব নম্বর-০০৮৭০৩১০০০৮৬১৯ এ দুই লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে।

 

এসিল্যান্ডের নিজ একাউন্ট ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ হিসাব নং ১১৮১০৫৫৫৩২৮০০ এ গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ত্রিশ হাজার, ৩১ ডিসেম্বর চল্লিশ হাজার ও ১০ ডিসেম্বর পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা করেন।

 

এছাড়া গত ২১ ডিসেম্বর ২০২০ ব্র্যাক ব্যাংকের ১৫০৩২০৩৬২৯৪২৪০০ হিসাব নম্বরে এক লক্ষ পনের হাজার টাকা জমা হয়েছে। যাহার রিসিভ নম্বর ৪০৪৩২৯২৬৪৩৫৫। সুমিত সাহা নাজ প্রোপারির্টিজ লিঃ, ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব নম্বর-১৫০৩২০৩৬২৯৪২৪০০১ এ প্রতি মাসে টাকা জমা করে থাকেন।

 

উল্লেখ্য যে, গত ২৫ জানুয়ারী সোমবার দুপুরে কাঠালিয়ার মেসার্স ত্বহা ব্রিকস ফিল্ডে এসিল্যান্ড সুমিত সাহার নেতৃত্বে নানা অভিযোগ তুলে দশ লাখ টাকা দাবি ও টাকা না পেয়ে ভাটার অপর পার্টনার মালিক মোঃ এনামুল হকের শ্বশুর হাবিবুর রহমান ও কর্মচারী মফিজুলকে আটক করে।

 

পরে ৪ লাখ টাকা নিয়ে আটককৃত দুইজনকে ছেড়ে দিলেও জড়িমানার রশিদে দুই লক্ষ টাকা লিখে দিয়ে বাকী দু’লাখ লোপাট করে দেয়। এ ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসলে ঝালকাঠিসহ কাঠালিয়া এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

 

এঅবস্থায় জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী ২ জানুয়ারী মঙ্গলবারের মধ্যে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা ও নাজির মাইনুলকে শোকজ করে এ শোকজের জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here