গণতন্ত্রের সিরিয়াল কিলার এই নির্বাচন কমিশন: ডা. জাফরুল্লাহ

নজর২৪ ডেস্ক- গণতন্ত্রের সিরিয়াল কিলার হলো নির্বাচন কমিশন— এ মন্তব্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। জাতীয় প্রেসক্লাবে শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিলের দাবি পরিষদের এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

 

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণস্বাস্থ্যের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, বাংলাদেশ গণমুক্তি পাটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমেন প্রমুখ।

 

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সিরিয়াল কিলার। এই সিরিয়াল কিলার নিরাপদে ঘুরে বেড়াবে এটা কি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে। সিরিয়াল কিলারের একটামাত্র অবস্থান তাদেরকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে বিচারের আওতায় আনা। তাদের এই অন্যায় আচরণ, গণতন্ত্র হ’ত্যার জন্য বারে বারে প্রতিটি ক্ষেত্রে যখনই চেষ্টা হয়েছে তখনই এই নির্বাচন কমিশন। কেবল তাই নয় ৪২ জন সিনিয়র সিটিজেনরা পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছেন তারা গণতন্ত্রকে হ’ত্যা করেছে, শুধু তাই নাই তারা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত।

 

তিনি বলেন, সংবিধান এটা কোনো পুথি নয়। সংবিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, একটা ধর্মগ্রন্থের মতো পবিত্র। এটা কেন পবিত্র, কেন গুরুত্বপূর্ণ? এটা আমার অধিকারকে রক্ষা করে। আমার অধিকার কী অধিকার, কিসের অধিকার? কে আমার দেশ চালাবে সেটা নির্ণিত করার অধিকার। আমার ভোটের অধিকার। কেন ভোট দিতে হবে? ভোটের দ্বারা এমন একটা সরকার আনতে হবে যেই সরকার গণতন্ত্র নির্ভর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে।

 

‘কিন্তু আজকে আমরা কী দেখছি— গণতন্ত্রের এই সিরিয়াল কিলার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করছে কারা, এই সরকার। যেই সরকার নির্বাচিত নয়। রাতের আঁধারে তারা আমলাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। পুলিশের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তাদের চুরি-ডাকাতি পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য। এই রকম চুরির ইতিহাস আর কোথাও নাই। প্রত্যেকে জানে কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঘুমিয়ে থাকে।’

 

বক্তব্যে দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে সমালোচনা করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের এমপি বিদেশের মাটিতে যখন সাজাপ্রাপ্ত হয়, তখন আমাদের দেশের বিচারালয় ঘুমিয়ে থাকে নির্জিব পাথরের মত, তারা দেখেও দেখে না। অথচ এখানে নিরাপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়, জেল খাটে। এই বিষয়টিকে লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন থেকে শুধু ভাল কথা বলে তার লাভ কী? বরং পদত্যাগ করলে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি হবে।

 

বেসরকারি একটি কোম্পানি বিনা টেন্ডারে কাজ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, এর বিচার কি হবে না? এর বিচারের জন্যই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *