‘সুষ্ঠু ভোটের দরকার নাই, উনার টাকা দরকার’

নজর২৪ ডেস্ক- নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু নির্বাচনকে গোরস্থানে সমাধিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের আয়োজিত এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকো এবং নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান বাপ্পির স্মরণে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

 

রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, লুটপাটে ব্যস্ত। উনার তো সুষ্ঠু ভোটের দরকার নাই, কিছু লোককে প্রশিক্ষণ দেবে এজন্য টাকা বরাদ্দ দরকার। ইভিএম মেশিন একটা জালিয়াতির মেশিন। সেই মেশিন কিনতে হবে, এজন্য উনার টাকা দরকার। আর সেই টাকা লোপাট করবেন তিনিসহ অন্যান্য কমিশনার।

 

সিইসির কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনি নিজের আত্মা বিক্রি করেছেন। আপনি নাকি আমলা ছিলেন, ডিসি ছিলেন? এত বড় ক্রীতদাস? ক্রীতদাসরাও তো মাঝে মাঝে মালিকের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে বিদ্রোহ করেন। আপনার মতো এ ধরনের ক্রীতদাস আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

 

তিনি বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীরা সিইসির অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে দরখাস্ত করেছিলেন। সিইসিকে ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘গণতন্ত্রকে ধ্বংসকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। এই লোকটি সুষ্ঠু নির্বাচনকে গোরস্থানের মধ্যে সমাহিত করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই উনি সরে যেতে চান না। সরকারও মনে করে, এত বড় তাবেদার, এত বড় গোলাম তো আর পাওয়া যাবে না।

 

চট্টগ্রামের সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন- চট্টগ্রামের নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে। চট্টগ্রামে নির্বাচনকালীন ৬৯ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

কেন তাদের গ্রেফতার করা হলো? আমাদের প্রার্থী ডা. শাহাদাত নিজে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। কই, আওয়ামী লীগের কাউকে তো গ্রেফতার করা হয়নি? আওয়ামী লীগের কারও বিরুদ্ধে তো মামলা দেয়া হয়নি? চট্টগ্রামে এক হাজার বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, এই সরকার যতদিন থাকবে নির্বাচন এমনই হবে। নির্বাচন কমিশন তো ফালতু কমিশন। সরকারের চাকর-বাকর দিয়ে নির্বাচন হবে না, শেখ হাসিনার পতন করতে হবে। আর এই পতনের প্রেরণা হবে বাপ্পিরা, কারণ ওদের জীবন দিয়ে ওরা গণতন্ত্রের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। সেই পতাকাকে সামনে রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *