Home কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য কোরআনে বর্ণিত ‘ত্বীন ফল’ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে দিনাজপুরে

কোরআনে বর্ণিত ‘ত্বীন ফল’ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে দিনাজপুরে

0
112

নজর২৪, হিলি- ত্বীন ফল, অনেকেই নাম শুনেছেন পবিত্র কোরআন শরীফে। কেউ কেউ দেখিওছেন। তবে দেশের মানুষের কাছে তেমন পরিচিত নয়। পুষ্ঠি গুণে ভরপুর এই ত্বীন ফলের চাষ হচ্ছে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাতে।

 

সখের বসে গাজীপুর থেকে গাছ এনে চাষ শুরু করেন মতিউর মান্নান। আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ডুমুর আকৃতির এই ফল সবার দৃষ্টি কেড়েছে। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে দুই প্রজাতির এক হাজারটি গাছ। বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে এলকার বেশ কিছু পরিবার।

 

পবিত্র কোরআনের আত-ত্বীন সূরায় বর্ণিত মরুভূমির মিষ্টি ফল ত্বীন এখন চাষ করছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মালারপাড়া গ্রােেমর যুবক মতিউর মান্নান। গাজীপুর থেকে তীন ফলের চারা এনে চার বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছেন তিনি। প্রতিটি গাছ থেকে প্রথম বছরে এক কেজি, দ্বিতীয় বছরে ৭ থেকে ১১ কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফল ধরে। এভাবে ক্রমবর্ধিত হারে একটানা ৩৪ বছর পর্যন্ত ফল দিতে থাকে।

 

ত্বীন ফল ওজনে ৭০ থেকে ১১০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। গাছটির আয়ু হলো প্রায় ১০০ বছর। প্রতিটি গাছ ছয় থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। তিন মাসের মধ্যেই শতভাগ ফলন আসে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ এখন মানিয়ে নিয়েছে ত্বীন। এই ত্বীন চাষে বেকারত্ব দূরের পাশাপাশি রপ্তানীতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন এই নতুন উদ্যোক্তা। ত্বীন বাগান ও চাষ পদ্ধতি জানতে চাষি, সাধারণ মানুষ বাগানটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। পরিদর্শনে আসা বিভিন্ন চাষি ও সাধারণ মানুষ ত্বীন ফলের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

 

ত্বীন চাষী মতিউর মান্নান জানান, ত্বীন চরম জলবায়ু অর্থাৎ শুষ্ক ও শীত প্রধান দেশে চাষ হলেও আমরা প্রমাণ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও ৩৬৫ দিন এ ফল উৎপাদন সম্ভব। এ ফল আমাদের দেশে সারা বছর পুষ্টি ও ফলের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। পোশাক শিল্পের পাশপাশি বিকল্প আরেকটা সম্ভাবনা দেখছি, বাংলাদেশে ব্যাপক ত্বীন চাষ। সরকারের সহযোগিতা পেলে তা রপ্তানি করে আন্তর্জাতিকভাবে বাজার ধরা সম্ভব। ত্বীন একটি সম্ভাবনাময় ফসল। যা চাষ করে দেশের বেকরাত্ব দূর এবং রপ্তানী করে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন এই নতুন উদ্যোক্তা।

 

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আয়তনের দিক থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে এটিই প্রথম ত্বীন ফলের বাগান। আমরা বাগানটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগ বালাই নাই বললেই চলে। দেশের প্রচার মাধ্যমে ত্বীন ফলের চাষ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও বিদেশ থেকে ত্বীনের আমদানি নির্ভরতা কমে আসার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here