নজর২৪ ডেস্ক- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে এক বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ওই জেলার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত হাইকোর্টের তলবে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
এসময় কুষ্টিয়ার এসপিকে সেই প্রিজাইডিং অফিসারের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। এসময় এক ঘণ্টা আদালতে দাঁড়িয়ে থাকেন কুষ্টিয়ার এসপি।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করায় সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে নিজের ব্যাখ্যা দিতে সশরীরে হাইকোর্টে উপস্থিত হন। হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এসপির ব্যাখ্যার শুনানি করেন।
এ সময় আদালত বলেন, মানুষ যেন পুলিশি রাষ্ট্র মনে না করে সেটি মাথায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাকে কাজে দক্ষ হতে হবে কথায় নয়। আপনারা মানুষের নিরাপত্তা দেবেন। কেউ যেন পুলিশের কাছে অনিরাপদ বোধ না করে।
আদালত আরও বলেন, পুলিশ যাতে মানুষের বন্ধু হয় সেটা করতে হবে। কে কোন দল, আদর্শ সেটা বিবেচনা করার দায়িত্ব পুলিশের নয়। সমাজকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থা একা পূর্ণাঙ্গতা পায় না। রাষ্ট্রের সব অঙ্গ এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। জুডিশিয়ালির মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত।
এসপি তানভীরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এতে পক্ষভুক্ত হয়ে শুনানি করেন আইনজীবী অনিক আর হক, ইশরাত হাসান ও এএম জামিউল হক ফয়সাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তাহিরুল ইসলাম।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে এক বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাতকে আজ সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব করে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, এ মর্মে রুলও জারি করে আদালত।
বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ সংক্রান্ত প্রকাশিত খবর নজরে এলে গত ২০ জানুয়ারি এই হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেয়।
