টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভা নির্বাচনে পূর্বের রাতেই ব্যালট বইসহ সকল সামগ্রী ছিনতাইয়ের আশংঙ্কায় ব্যালটসহ নির্বাচনী সামগ্রী নির্বাচনের দিন সকালে কেন্দ্রেগুলোতে পাঠাতে লিখিত আবেদন করেছে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী প্রার্থী আব্দুস সাত্তার।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদনে জানান তিনি, যেকোন দুষ্কৃতিকারী নির্বাচনের পূর্বের রাতেই ব্যালট বইসহ ব্যালট সামগ্রী ছিনতাই, বিনষ্ট বা ক্ষতি করতে পারে। এতে সাধারণ ভোটারসহ আমরা প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হব। এজন্য নির্বাচনের দিন সকালে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বইসহ সকল সামগ্রী প্রেরণ করলে নিরাপদ ও শংঙ্কামুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বইসহ নির্বাচনী সামগ্রী ছিনতাই হতে পারে এই আশংঙ্কায় নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে যাতে নির্বাচনের দিন সকালে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রগুলোতে পাঠাতে। এছাড়া গতকাল রাতে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা আমার জগ মার্কার পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে। পৌরসভার চরবামন হাটা এলাকায় জগ মার্কার সকল পোস্টার তারা ছিড়ে ফেলেছে।
অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লিখিত আবেদন পেয়েছি। এই বিষয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী (৩০ জানুয়ারি) ভূঞাপুর পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন তিনজন প্রার্থী।
এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ (নৌকা), বিএনপি মনোনীত পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার।
পৌরসভাটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে বিবেচিত আওয়ামী সমর্থিতদের কাছে। এখানে টানা দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ। এবারও তিনি দলীয় টিকিটে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
তবে পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় মাসুদুল হক মাসুদ কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া, আওয়ামী লীগের বিশাল একটি অংশ নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। আবার অনেককেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মনোনয়নপত্র জমা দেয়া থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে যাচ্ছেন। এছাড়া একক প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
