বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহবান মেজর হাফিজের

নজর২৪ ডেস্ক- দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহবান জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

 

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে আমার বিনীত আহবান, আওয়ামী দু:শাসনকে অপসারণ করার জন্যে রাজপথে নেমে আসুন। যারা রাজপথে নেমে এই সরকারকে উৎখাত এবং গণতন্ত্রকে পু:নরুদ্ধার করবে, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে, আমরা তাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজপথে দৃড় পদক্ষেপ রাখবো। আর সারারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এই সরকারে প্রতিহত করাই হোক আমাদের আজকের দিনের অঙ্গীকার।

 

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত বিজয়ের ৪৯ বছর ‘ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মেজর হাফিজ।

 

তিনি বলেন, ৪৯ বছর আগে আমরা যে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার ফলাফলটা কি? আমাদের স্বাধীনতা কতটুকু অর্জিত হয়েছে, কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, এই প্রশ্ন আমাদের সবাইকে আলোরিত করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙ্গালি জাতির জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায়। ইতিহাসের এক স্বর্ণালী উপাখ্যান।

 

প্রশ্ন ওঠতেই পারে যে, স্বাধীনতার এই ৪৯ বছরে কি পেলাম আমরা। আমরা সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। আমরা যে স্বপ্ন ধারণ করে ৪৯ বছর আগে রণাঙ্গনে জীবন পণ করে লড়াই করেছি তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

মেজর হাফিজ বলেন, বলতে দ্বিধা নেই, আজকে আমাদের দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন নির্বাসনে। মানবিক মর্যাদা ভুলন্ঠিত। স্বাধীনতার এই সময়ে এসে আমরা পেয়েছি শুধু দু:শাসন। আমরা সবাই একটি বৃহৎ কারাগারে বসবাস করছি। সরকার থেকে বলা হয়, আমরা নাকি বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু উন্নয়নের সূচকে আমরা ভুটানেরও নিচে। তথাকথিত উন্নয়েনর রোল মডেল এটি একটি ফাঁকা বুলি। আমারা ক্রমশ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছি।

 

তিনি বলেন, রাজনীতির হয়েছে ব্যাপক দুর্বৃত্তায়ন। যার যেখানে থাকার কথা নয়, সে সেখানে পৌঁছে গিয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সেই গণতন্ত্রই আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দু:খজনক। আমরা খুবই তরুণ বয়সে যুদ্ধে নেমেছিলাম দেশকে মুক্ত করার জন্য।

 

কিন্তু এখন যখন রাস্তায় নামি তাদের খুঁজি, কই সে সকল তরুণেরা। কোথায় হারিয়ে গেল? কোথায় সেই যুবকেরা, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়েছিল। মা বোনের ইজ্জতের জন্য লড়েছিল। আজ প্রতিদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটতেছে। কোথায় সেই তরুণেরা? যারা ধর্ষণের প্রতিবাদ করবে। দেশে গণতন্ত্র নেই তার প্রতিবাদ কোথায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *