নজর২৪, ঠাকুরগাঁও- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ এখনো ইভিএম কী জিনিস তা ভালো করে চেনেন না। অথচ তাদের বাধ্য করা হচ্ছে ইভিএমে ভোট দিতে। ইভিএমে ভোট যেখানেই দেন না কেন, পড়বে গিয়ে নৌকাতেই। সেভাবেই প্রোগ্রাম সেট করা থাকে।
মির্জা ফখরুল মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইভিএমকে ভোটারবান্ধব পদ্ধতি নয় বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রোগামে ঠিক করা ধানের শীষ, চলে যাবে নৌকায়। আবার ফাইনালি দেখা যায় ১০বার ভোট দেওয়া হলে সেখান থেকে ৮টা ভোটই চলে যাবে নৌকায়। ইভিএম এর যে বোতামেই চাপ দেওয়া হোক না কেন ফলাফল কিন্তু আগের ঠিক করা স্থানেই যাবে।
ফখরুল বলেন, “আজকে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইউরোপ, ভারত ইভিএমের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এই মেশিন কখনই সঠিক হয় না; যখন আমি আমার হাত দিয়ে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিয়ে ভোট দিই তখন সেটা সঠিক হয়।”
তিনি বলেন, “এটাতো নির্বাচনই হয়নি, মাপকাঠি আবার কিসের? এ সরকারের আমলে এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় কখনোই কোন সুষ্ঠু নির্বাচত হতে পারে না। আমরা একটাও বর্জন করিনি, আমরা দুটো বাদ দিয়ে সবগুলোর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি।“
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চাই নিরপেক্ষ একজন নির্বাচন কমিশনার সেই সঙ্গে ইভিএম বাতিল করে ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট প্রদান। ইভিএম ব্যবহার নিশ্চয়ই ভোটারদের জন্য সহজ এবং বোধগম্য কোনো পদ্ধতি নয়। আমাদের সহজ সরল ভোটাররা ইভিএমের মতো জটিল প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত নয় এবং সেভাবে যথাযথ প্রশিক্ষণও পায়নি।
তিনি বলেন, যে আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে জনগণের দল হিসেবে পরিচয় দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলে দাবি করে সেই আওয়ামী লীগ আজ জনবিচ্ছিন্ন এবং লুটপাটের দলে পরিণত হয়েছে।
প্রথম ধাপের পৌ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্থানীয় সরকার কখনও কোনো সরকার পরিবর্তন করে না। কিন্তু সেখানেও তারা (আওয়ামী লীগ) শক্তি প্রয়োগ করে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইলেকশন কমিশনারের যোগসাজশে তারা স্থানীয় সরকারের আসনগুলোকে দখল করে নিয়ে গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীনসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
