মোমেন কি ভারতের প্রতিনিধি, জানতে চান রিজভী

নজর২৪ ডেস্ক- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন কি না জানতে চান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

মন্ত্রীর একটি বক্তব্যের জেরে বিএনপি নেতা বলেন, ‘জানতে ইচ্ছে করছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কি স্বাধীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নাকি বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতিনিধি।’

 

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সরকার প্রধান নরেন্দ্র মোদির ভার্চুয়াল সামিটে সীমান্ত হত্যা নিয়েও কথা হয়। মোদি আশ্বাস দেন, তার দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে না।

 

সেদিন এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘আমাদেরও দোষ আছে। আমাদের কিছু দুষ্টু লোক তাদের সীমান্তের অনেক ভেতরে চলে যায়। অস্ত্র-বারুদ নিয়ে যায়। সেখানকার স্থানীয়রাও এর সঙ্গে জড়িত। আমাদের সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমাতে হবে।’

 

রোববার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘বিজয়ের মাসে, এমনকি বিজয় দিবসে সীমান্তে মানুষ মারা যাওয়ার পরও যে মন্ত্রীর কোনো বিকার নেই, এরা আত্মা বিক্রি করেছেন বলেই সীমান্তে বাংলাদেশিদেরকে হত্যায় বিএসএফের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গাইছেন।’

 

খাদ্যমন্ত্রী সাধান চন্দ্র মজুমদারের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যও তুলে ধরেন রিজভী। বলেন, ‘কিছুদিন আগে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কাঁটাতারের বেড়া কেটে গরু আনতে গিয়ে ইন্ডিয়ার গুলি খেয়ে মারা যায়, তার জন্য দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকার নেবে না।’

 

এই দুই মন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘যারা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো দূরের কথা, উল্টো পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের মানুষদেরকে হত্যা করারই ন্যায্যতা দান করা হচ্ছে। এই দুই মন্ত্রীর বক্তব্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী। সুতরাং সীমান্ত হত্যার দায় বাংলাদেশ সরকারও এড়াতে পারে না।’

 

রিজভী বলেন, ‘২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বিএসএফ সীমান্তে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীকে। সেই বর্বর দৃশ্য আজও দেশের মানুষকে ব্যথিত করে। প্রতিটি দেশপ্রেমিকের হৃদয়ে আজও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দেশের জনগণ আশা করেছিল, ফেলানী হত্যার বিচার হবে, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কমে আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেই।’

 

ফেলানি হত্যায় বিচার না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে বিজভী বলেন, ‘সেই বর্বর দৃশ্য আজও দেশের মানুষকে ব্যথিত করে। প্রতিটি দেশপ্রেমিকের হৃদয়ে আজও রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

 

আইন ও শালিস কেন্দ্রের একটি তথ্য তুলে ধরা হয় সংবাদ সস্মেলনে। জানানো হয়, গত ১২ বছরে প্রায় ৫৫০ জন বাংলাদেশিকে সীমান্তে হত্যা করেছে বিএসএফ। এই করোনার মধ্যেও গত প্রায় এক বছরে খুন হয়েছে ৪৫ জন। এছাড়াও সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড ও নদীতে প্রায়ই বাংলাদেশির রহস্যজনক লাশ পাওয়ার ঘটনা খবরে আসে।

 

রিজভী বলেন, ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বর্ডার গার্ডের তরফ থেকে পতাকা বৈঠক করে লাশ গ্রহণ ছাড়া ভরসা রাখার মতো কোনও তৎপরতাই এখন চোখে পড়ে না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে সমমর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশিদের পাইকারি হারে খুন করে যাচ্ছে, অথচ সরকার শুধু চুপচাপ নয়; বরং বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার বৈধতা দিচ্ছে।’

 

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘ভোটারবিহীন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে রক্তাক্ত সীমান্ত এখন বাংলাদেশের সীমান্ত। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার একটি ভয়ঙ্কর বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। তামাম দুনিয়ায় এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যার নজির নেই। পৃথিবীর কোনো আইনেই এর সমর্থন নেই। সীমান্ত হত্যা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ- যারা এসব ঘটাচ্ছে, তারা রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।’

 

রিজভী বলেন, ‘বিএসএফ আত্মরক্ষার কথা বললেও অস্ত্র হাতে কোনো বাংলাদেশী মারা যাওয়ার নজির নেই। অথবা এ বিষয়ে ভারত কখনোই অভিযোগ করেনি বাংলাদেশের নিকট। কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে থাকলে তাকে আইনের আওতায় নেয়া হোক। গুলি করে মারার এখতিয়ার কারো নেই। বিএসএফ’র বিতর্কিত শ্যুট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বহাল আছে। যার প্রেক্ষিতে বিএসএফ বিনা কারণে বাংলাদেশী নাগরিককে গুলি করতে পারে। কারণ সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা বন্ধে বর্তমানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *