নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ২নং শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্রে টাকা ছাড়া মিলে না সেবা। সেবা গ্রহীতারা সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা অশোক শর্মা। যদিও এই দায়িত্বে থাকার কথা ইউডিসি উদ্যোক্তা প্রদীপ কুমার বর্মণের।
গত ২৬ নভেম্বর ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন ওই ইউনিয়নের মিনহাজ আলী, নাজিম উদ্দিন, মনোয়ার হোসেন, সোলায়মান হোসেন ও বিকাশ চন্দ্র বর্মণ নামে পাঁচ ব্যক্তি।
লিখিত অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, টাকার বিনিময়ে অশোক শর্মা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের বয়স বেশি দেখিয়ে জন্ম সনদ দিচ্ছে। এতে ওই এলাকায় সম্প্রতি বাল্য বিয়ের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অভিযোগকারী নাজিম উদ্দিনের কাছে জন্ম সনদ সংশোধনের জন্য এক হাজার টাকা দাবি করেন আশোক শর্মা তবে সময় চান ছয় মাস।
সেই সময় অশোককে ছয়শত টাকা দিলেও এক বছর পরেও পাননি জন্ম সনদ। মিনহাজ আলী নিজের জন্মসনদ নিতে গেলে বিভিন্ন ভুলের অযুহাতে তিন হাজার টাকা দাবি করেন অশোক শর্মা। মনোয়ার হোসেন বলেন, তার জন্ম সনদ সংশোধনে ২ হাজার ৬ শত টাকা দাবি করলে ১ হাজার টাকা প্রদান করে দুই বছরেও পাননি জন্মসনদ।
মনোয়ার হোসেন বলেন, ১ হাজার ২ শত টাকার জন্য জন্ম সনদ নিতে না পারায় চাকরিতে যোগদান করতে পারিনি। অশোক শর্মা জানান, আমার সাথে উল্লেখিত বিষয়ে কারো সাথে কোন লেনদেন হয়নি। অভিযোগটি বানোয়াট।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তের দায়িত্ব শালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে দেয়া হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও মহোদয়কে হস্তান্তর করব।
