নজর২৪ ডেস্ক- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে আল্লাহর নাম খচিত ‘মুজিব মিনার’ নির্মাণের যে বিকল্প প্রস্তাব শীর্ষ আলেমরা দিয়েছেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, ভাস্কর্য নির্মাণকাজ, যেটা নির্মাণাধীন, নির্মাণকাজ চলবে। আমরা ভাস্কর্য নির্মাণ করব। তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, এটি তারা দেখুক এটি তাদের বিষয়।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, ধোলাইপাড়ে নির্মাণাধীন ভাস্কর্য হবেই। ভাস্কর্যের কাজ চলবে। নির্মাণাধীন ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলবে। আমরা ভাস্কর্য নির্মাণ করব। তারা (আলেম) যে প্রস্তাব দিয়েছে, এটা তাদের বিষয়। ভাস্কর্য বিভিন্ন দেশে হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “এ ধরণের ঘটনা, যারা ঘটাবে সেটিতো অবশ্যই সংবিধান ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল কারণ বঙ্গবন্ধু তো আমাদের জাতির পিতা সাংবিধানিকভাবে।
“আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর হামলা যারাই করবে, এ ধৃষ্টতা যারাই দেখাবে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই এ প্রশ্নে আপস করা যায় না। এটা অযৌক্তিক, অগ্রণযোগ্য।”
জাতির জনকের ভাস্কর্যের বিরোধিতায় বক্তব্য দেওয়ায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে সোমবার দুটি মামলা করা হয়েছে ঢাকার আদালতে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এ আবেদন করেন।
আওয়ামী লীগ বা যুবলীগ কেন মামলা করল না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু কি কোনো দলের, নন পলিটিক্যাল মঞ্চ থেকে করা ভালো বলে আমি মনে করি।
ভাস্কর্য ভাঙচুরে কাউকে হুকুমের আসামি করা হবে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমরা যদি সেরকম প্রমাণ পাই কারো বিরুদ্ধে হুকুম দিয়েছে সাক্ষ্য প্রমাণ থাকে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
এর আগে ১৩ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন। ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে তা বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। আরও কয়েকজন আলেমও এ নিয়ে ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে আছি ক্ষমতায় আছি, আমাদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে হবে। কথায় কথায় মাথা গরম করলে চলবে না, বুঝে শুনে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সেনসিটিভ ইস্যু। কাজেই এখানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বিষয়গুলো দেখছেন এবং এটা ট্যাকল করছেন সেভাবে, আমরা অহেতুক দেশে একটা অশান্তি-বিশৃঙ্খল পরিবেশের উসকানি দিতে চাই না। আমরা যুক্তি দিয়ে বলতে চাই, তারা যে বলছে তা সঠিক না।
হেফাজতের নেতাদের প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎকার দেবেন কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎকার দেবেন কিনা, কবে দেবেন? এটা আমি বলতে পারি না। তিনি চাইলে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন। সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মুসলিম দেশগুলোতে মাঝে মাঝে ‘ধর্মীও ইস্যু’ চলে আসে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, মুসলিম দেশে ধর্মীও ইস্যু চলে আসে। এর পিছনে রাজনৈতিক কারণও আছে। কাজেই সবকিছু আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে আল্লাহর নাম খচিত ‘মুজিব মিনার’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন আলেমরা। ভাস্কর্য নিয়ে দেশের চলমান অস্থিরতা ও জাতীয় সঙ্কট বিষয়ে আলেমদের করণীয় শীর্ষক বৈঠক বসে শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে।
এদিন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় দেশের খ্যাতনামা আলেমরা বৈঠকে যোগ দেন। জানা গেছে, ভাস্কর্য ইস্যুতে ৫টি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলেমরা। এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে তার সাক্ষাৎ চান আলেমরা।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা বোর্ড বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান।
বৈঠক শেষে বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সারাদেশের খ্যাতনামা আলেমরা এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ৫টি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেগুলো স্মারকলিপি আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরণ করা হবে। একইসঙ্গে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, মানব মূর্তি বা ভাস্কর্য যে কোনও উদ্দেশে তৈরি করা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ৯২ ভাগ মুসলমানদের দেশে মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কোরআন সুন্নাহ সমর্থিত উত্তম কোনও বিকল্প সন্ধান করাই উত্তম।
বিকল্প চিন্তা কি প্রশ্নের জবাবে মাহফুজুল হক বলেন, আমরাদের প্রস্তাব আল্লাহর ৯৯ নাম খচিত মুজিব মিনার নির্মাণ করা হোক।
