নজর২৪, ঢাকা- নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের জেরে কারাগারে যান সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। এরপরই একের পর এক বেরিয়ে আসে নানা অপরাধের তথ্য। সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের দখল অনিয়মের তথ্যও প্রকাশ্যে আসে।
ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তারের সময় পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে সরকারি মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের একটি জমি হাজী সেলিমের দখল থেকে উদ্ধার করেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারের কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই জমি আবার দখলে নিয়েছেন হাজী সেলিম। সেখানে স্ত্রীর নামে সাইনবোর্ড টানিয়েছেন তিনি।
ওই জমিতে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণের জন্য নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে রেখেছিল। পুনরায় দখল করে ওই সামগ্রীও সরিয়ে ফেলেছে হাজী সেলিমের লোকজন।
আবার দখল হলেও ওই জমি নিয়ে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। তারা সরকারি এই সম্পত্তি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাইলেও, কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
২০ শতকের এই জমিটি গত কয়েক মাস ধরে সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম দখল করে রেখেছিলেন। যার বাজার মূল্য শত কোটি টাকা। জমিটি নতুন করে দখলে নেয়ার পর বসিয়েছেন পাহারা। পর্যায়ক্রমে হাজী সেলিমের লোকজন পাহারা দিচ্ছেন। ফলে ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ওই জমির আশেপাশে যেতে পারছেন না।
জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই জমিটি সে সময়ের হাবিব ব্যাংকের ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর হাবিব ব্যাংক ও কমার্স ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা হয় অগ্রণী ব্যাংক। আর সেখানেই করা হয় ব্যাংকটির শাখা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই শাখার উদ্বোধন করেন। সেখানে তার একটি ব্যাংক হিসাবও ছিল।
ওই জমিতে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পরে ব্যাংকটির শাখা পাশের একটি ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। আর এই জমিতে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উদ্ধারের পর ঝুলানো হয়েছে সাইনবোর্ডচলতি বছরের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর ব্যাংকের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। এই সুযোগে হাজী সেলিমের লোকজন জায়গাটি দখল করে নেয়। তারা বুলডোজার দিয়ে পুরনো ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে সীমানা প্রাচীর তুলে দেয়।
এই ঘটনায় গত ২০ মে চকবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী মহাব্যবস্থাপক বৈষ্ণব দাস মণ্ডল। ১৫ জুন র্যাব-৩ এর কাছেও অভিযোগ দেন তিনি।
সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও ব্যবস্থা না নিলেও গত ২৬ অক্টোবর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেফতারের পরদিন জমিটি উদ্ধার করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে ৪ নভেম্বর রাতে আবার হাজী সেলিমের লোকজন জমিটি দখল করে নেয় বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যদিও ব্যাংকটির কোনও কর্মকর্তা নিজের পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে ব্যাংকের গড়ে তোলা সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে হাজী সেলিমের লোকজন। গেটে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে জমির মালিক হিসেবে হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশানারা বেগমের নাম লেখা রয়েছে।
সরকারের জমি দখল করে নেয়ার বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাধারণ ডায়েরি করার পরও ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুত হাওলাদার বলেন, দেওয়ানি বিষয়ে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ করার নিয়ম নেই। আমি তাদেরকে বলেছি কোর্টে একটি মামলা করার জন্য। কোর্ট যখন আদেশ দেবে তখন আমরা ব্যবস্থা নেবো। এর আগে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না।
