এবার প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে আসলো নেপালি কন্যা

কাউকে দূর থেকে ভালবাসা সর্বাধিক পবিত্র ভালবাসা কারণ, এই প্রেমে কোনও অ’শুদ্ধতা নেই। আর তাইতো প্রেমের টানে নেপালি কন্যা অনুদেবী ভুজেলে বাংলাদেশে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন। জমজমাট আয়োজনে সম্পন্ন হলো বিয়ে।

শনিবার ঢাকায় নেপালি কন্যা অনুদেবী ভুজেলে ও বাংলাদেশি পলাশ পালের বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাঁদের শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসেন স্থানীয় সাংসদসহ বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সহনাটি ইউনিয়নের হতিহর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিতাই চন্দ্র পালের ছোট ছেলে পলাশ পাল পেশাগত কারণে সিঙ্গাপুরে থাকেন। সেখানে টিকটকে পরিচয় হয় নেপালি কন্যা অনুদেবী ভুজেলের সঙ্গে। তিনিও সিঙ্গাপুরের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিচয় থেকেই তাঁদের পরিণয়। আড়াই বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

তবে প্রথমে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি আসে। ভিনদেশি ছেলের সঙ্গে এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি তাঁরা। তবে ভালোবাসার কাছে টেকেনি সেই আপত্তি। গত ৭ মার্চ অনুদেবী চলে আসেন বাংলাদেশে। পলাশের বড় বোন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি ঢাকায় তাঁদের বিয়ের আয়োজন করেন।

বউভাতের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মূর্শেদুজ্জামান সেলিম, জেলা পরিষদ সদস্য এইচ এম খায়রুল বাসার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুন্নাফ প্রমুখ।

কনে অনুদেবী জানান, তাঁর বাবা ভারতীয় ও মা নেপালি। বাবার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি। মূল বাড়ি নেপালে। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে নেপালে।

বরের কাকা রঞ্জিত কুমার পাল বলেন, ‘অনুদেবীকে আমরা নিজের মেয়ের মতোই বরণ করে নিয়েছি। আশা করছি, পরিবারের অভাব সে বুঝতে পারবে না।’

বরের বোন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, ‘আমরা চার ভাইবোনের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। অনুদেবীকে পছন্দের বিষয়ে আগেই আমাদের জানিয়েছিল। বিয়ের মাধ্যমে তাঁদের প্রেমের সফল পরিণয় ঘটেছে। নবদম্পতির জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ কামনা করছি।’

পলাশের মা পূর্ণিমা রাণী পাল বলেন, ‘আমাদের ছেলে তাঁকে পছন্দ করেছে। কনেকে আমাদের পছন্দ হয়েছে, সে খুব ভালো মনের মানুষ। এরই মধ্যেই সবাইকে আপন করে নিয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *