জাতীয় ঐক্য গড়ার ডাক দিলেন মির্জা ফখরুল

ঢাকা: সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে অবিলম্বে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৭ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৬তম কারাবন্দি দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে পরিকল্পিতভাবে জনগনের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের আর কোনো অধিকার নেই এই রাষ্ট্র পরিচালনা করার।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দাবি খুব পরিষ্কার। প্রথম দাবি হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে মুক্তি দিতে হবে এর কোনো বিকল্প নেই। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার পরে একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

এ সময় সরকারের পদত্যাগ দাবি করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব। বলেন, আসুন আমরা নিজেদের সংঘবদ্ধ করি। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করি। সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করি। একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে তাদের পরাজিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকার তারেক রহমানকে ভয় পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের যে অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, এই দক্ষতার কারণেই তিনি অতি অল্পসময়ে সারাদেশে গণতান্ত্রিক শক্তি, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই দক্ষতা তারা দেখেছে। যখন তাকে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তিনি তৃণমূল পর্যন্ত দেখাশোনা করেন। তখন তারা (আওয়ামী লীগ) পরিকল্পনা করতে থাকে যে, এই মানুষ যদি দেশে থাকে তাহলে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনটা এফআইআর-এ তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তদন্ত কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করে তারেক রহমানের নাম ফাইলে যুক্ত করে নতুন করে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রমাণ তার বিরুদ্ধে নেই। যে বিচারক তাকে মুক্তি দিয়েছিলেন তাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। শুধু তাকে নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সাহেব, তাকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে দুর্নীতি এখন এমন পর্যায়ে চলে গেছে, সাধারণ মানুষের এখন আর বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। জিনিসপত্রের দাম এমনভাবে বাড়ছে, যেখানে আর বেঁচে থাকার সুযোগ নেই।

বিএনপর সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গোলাম মোর্শেদ, ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *