নজর২৪, ঢাকা- সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়- এই খনার বচন বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে। আমরা একটা নষ্ট নেতৃত্বের মধ্যে পড়ে গেছি। এখানে রাজা এমন হয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টগুলো বোঝার শক্তিও তাদের নেই।’
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানির দাম বাড়ানোর নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ডিজেল ব্যবহার করে বাস-ট্রাক। বড়লোকদের প্রাডো গাড়িতে ডিজেল ব্যবহার হয় না। কেরোসিন ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ। প্রজারা কষ্ট পায়। আর যিনি রাজা ওনি তখন প্যারিসে বক্তব্য দেন, স্কটল্যান্ডে বক্তব্য দেন, অথবা গ্লাসগোতে পরিবেশের বক্তৃতা করেন, লন্ডনে বক্তৃতা করেন। গোটা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। ভালো কথা, আমাদের নেতা যদি সারা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন, দুঃখের কিছু নেই। কিন্তু তার দেশে কী ঘটছে? দেশের মানুষ কেমন আছে।
তিনি বলেন, আজকে কত বড় লজ্জা আমাদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন গণতন্ত্র সভা ডেকেছেন, একশটা দেশকে ডেকেছেন। পত্রিকায় দেখেছি। আমরা শান্তি পেতাম, ভালো লাগতো, নিজের মাথাটা উঁচু হয়ে দাঁড়াতো। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ, বাংলাদেশ। অথচ আমাদের নামটা সেখানে নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১২/১৪ বছর আগে আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশে ছিলাম। গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি, যার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের মতো একটা ইউনিক সিস্টেম আমরা নিয়ে এসেছিলাম। সুষ্ঠু নির্বাচন করতাম, সেই দেশটাকে আজকে অগণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। এর চেয়ে লজ্জার, দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার একাংশের উদ্যোগে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ‘দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
জাপার সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসলামিক পার্টি আবুল কাশেম, জাগপার আওলাদ হোসেন শিল্পীও বক্তব্য রাখেন।
