এএসপি পরিচয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেম, বিয়ের পর জানা গেল সে বাদাম বিক্রেতা

নজর২৪ ডেস্ক- পুলিশ পরিচয়ে কলেজ পড়ুয়া তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগে আব্দুল আলীম (৩২) নামে এক যুবক আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোকুল ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

 

আটক আব্দুল আলীমের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলার ডাকিয়াপারা গ্রামে। তার বাবার নাম ফজলুল হক (মৃত)। পুলিশ পরিচয় দিলেও আলিম একজন বাদাম বিক্রেতা। এটি তার ৫ম বিয়ে, তার দুটি সন্তানও রয়েছে।

 

জানা যায়, মুঠোফোনের মাধ্যমে আলীমের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ‌ওঠে। প্রায় দেড় বছর ধরে নিজেকে পুলিশের এএসপি পরিচয় দিয়ে প্রেম চালিয়ে যান আলীম। চলতি মাসের ১৮ তারিখ তিনি তার প্রেমিকার বাড়ি যান এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা মোহরানা দেখিয়ে বিয়ে করে সেখানেই সংসার শুরু করেন।

 

পুলিশ জানায়, আলীম তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান তিনি রংপুরের সৈয়দপুর নামে এলাকায় একটি পুলিশ ফাড়িতে কর্মরত আছেন। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পেলে সন্দেহ করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে নিজের বাদাম বিক্রির পেশার কথা স্বীকার করেন আলীম। এও জানান, তিনি পুলিশ নন; তবে সোর্স হিসেবে কাজ করেন।

 

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলিমের সঙ্গে পলাশবাড়ি গ্রামের কলেজ পড়ুয়া এক মেয়ের মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মাস প্রতারক নিজেকে পুলিশের এএসপি পরিচয় দিয়ে প্রেম চলমান রাখেন। এরমধ্যে ১৮ জুন আলীম মেয়েটির বাড়িতে এসে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫শ’ টাকা দেনমোহর দেখিয়ে তাকে বিয়ে করেন। প্রতারক আলীম মেয়েটির পরিবারকে জানান তিনি রংপুর জেলার সৈয়দপুর নামের কোনো এক পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বে আছেন।

 

একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার মেয়েটির পরিবারের সন্দেহ হলে আলিমকে জেরা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার পেশা বাদাম বিক্রেতা ও পাশাপাশি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটির পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে আটক করেন।

 

সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক বেদার উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের পলাশবাড়ি গ্রাম থেকে ওই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তাঁর নাম, ঠিকানা, পরিচয় সবই ভুয়া।

 

জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক আরও স্বীকার করেন, তিনি পেশাদার প্রতারক। মাঝেমধ্যে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেন। প্রতারণা করে কিশোরী ও তরুণীদের বিয়ে করা তাঁর নেশা। এ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে তিনি পাঁচটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর পক্ষে দুটি সন্তানও রয়েছে তাঁর। তবে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে।

 

বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ও মিডিয়া মুখপাত্র) ফয়সাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, আটক আলীমের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *