নজর২৪, ঢাকা- বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন মাহমুদ দোষী সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
সোমবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির গঠন প্রক্রিয়ার সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার সংশ্রব দিনে-দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে দলে। মাঝখানে তিনি দলে তেমন একটা সক্রিয় ছিলেন না। নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিপত্তি বিবেচনায় নিয়ে সবশেষ কাউন্সিলে (২০২০ সালে) তাকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়।’
জিএম কাদের বলেন, ‘নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, আমরা অনেক সারপ্রাইজড। আমরা দলীয়ভাবে এটা পর্যযালোচনা ও আলোচনা করবো।’
দলের ফোরামে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান জিএম কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলেও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানা যায়, নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাপার ৯ম কাউন্সিলে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়।
এছাড়া তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছিলেন লায়ন ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিসট্রিক্ট চেয়ারম্যান।
নাসির ইউ মাহমুদ ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য। তিনি ৩৭ বছর ধরে ডেভেলপার ব্যবসায়ে আছেন। ১০ বছর ধরে মাহমুদ কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। কুঞ্জ ডেভেলপার্সের আগে তিনি মাহমুদ বিল্ডার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের এমডি ছিলেন।
উল্লেখ্য, ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য।
রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন পরীমনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় বনানীর বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি।
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সোমবার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের নামে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন পরীমনি।
আসামি গ্রেপ্তারে সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয় উত্তরার এই বাড়িটিতে অবস্থান করছেন প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ।
বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অমিসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন নারীকে। জব্দ করা হয় দেশি-বিদেশ মদসহ মাদকদ্রব্য।
পুলিশ বলছে, এই বাসায় প্রতিদিন ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন নাসির। উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করানো হত। বাড়িটিতে যাতায়াত ছিল অনেকের।
