শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: একজন সাংবাদিকের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে সত্যের সন্ধান, উদঘাটন এবং জনসমক্ষে তা প্রকাশ ও উপস্থাপন করা।
বিশ্বজুড়েই সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনেক কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। তাই বলে একজন পেশাদার সাংবাদিককে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করা, আটকে রাখা এবং গ্রেপ্তার কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা সীমাহীন বাড়াবাড়ি এবং সাংবাদিক সমাজকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার শামিল।
রোজিনা ইসলাম দেশের স্বনামধন্য সিনিয়র সাংবাদিক। তিনি সাংবাদিকতার জন্য জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা অবাধ তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সাহসী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অপমান ও হেনস্তার তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটি। সরকারের কাছে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবী জানান এই সংগঠন।
এ ঘটনার সম্মানজনক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশবাসীকে সাংবাদিক সমাজের পাশে থাকার বিনীত আহবান জানিয়েছেন সাংবাদিকদের এই সংগঠন।
উল্লেখ্য, প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। তাকে সেখানে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় সচিবালয়ে আটকে রেখে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে কিছু নথির ছবি তোলার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ রোজিনা ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু আলোচিত রিপোর্ট করেছেন, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করেছেন।
