মামলায় হেফাজত নেতাদের নাম নেই কেন, জানালেন আইজিপি

নজর২৪, ঢাকা- গত শুক্র ও রোববার হেফাজতে ইসলামের হরতালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডবের ঘটনায় করা মামলায় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম না থাকার কী কারণ, সেটি ব্যাখ্যা করেছেন পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ।

 

তিনি বলেছেন, ‘যারা অনস্পট ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমাদের দেশে কোনও কাজ হলে দশ রকম কন্ট্রোভার্সি হয়। আমরা এক্ষেত্রে চাইনি এরকম কিছু হোক। তদন্ত চলছে। তদন্তে হেফাজতের নেতাদের বা নির্দেশদাতাদের নাম আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কাউকে বাদ দেইনি।’

 

বুধবার (৩১ মার্চ) ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন।

 

আইজিপি বলেন, নির্দেশদাতা যে ব্যক্তিই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোদির সফর নয় বরং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কলঙ্কিত করতেই এই হামলা করা হয়েছে। সরকারি অফিসে হামলা হয়েছে। রেলস্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। থানায় হামলা হয়েছে, ডাক বাংলোতে আগুন দেওয়া হয়েছে, সঙ্গীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পোড়ানো হয়েছে। এসব কারা করেছে সবই বের হয়ে আসবে। হেফাজত নেতাদের ওপর ভর করে দেশবিরোধী অপশক্তি এই কাজ করেছে।

 

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, মামলায় হেফাজত নেতাদের নাম দেওয়া হয়নি বিষয়টি এমন নয়, যারা হামলা করেছে তাদের নামে মামলা হয়েছে। যারা নির্দেশদাতা তাদের নামও তদন্তে বেরিয়ে আসবে। চিন্তার কোনো কারণ নেই।

 

আইজিপি বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দিন হেফাজত সারা দেশে তাণ্ডব চালায়। প্রথমে বায়তুল মোকাররম, পরবর্তীতে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকে। আমাদের কোমলমতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে। হাটহাজারি থানায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা আক্রমণ করেছে। এর আগেও এই থানায় তারা আক্রমণ চালিয়েছে। ভূমি অফিসে আক্রমণ করেছে। ডাকবাংলোতে আক্রমণ করেছে। ভূমি অফিসের সব কাগজপত্র একত্র করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট পাবে।’

 

আইজিপি বলেন, ‘হাটহাজারিতে আমাদের একজন শিক্ষনবিশ এএসপিকে অপহরণ করে তারা নিয়ে যায়। তাকে বেধম মারধর করা হয়। একজন ডিএসবি সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের হত্যার জন্য মারধর করা হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *