‘আল জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা প্রমাণ করুন, না হয় পদত্যাগ করুন’

নজর২৪, ঢাকা- আল-জাজিরায় প্রকাশিত রিপোর্টের ফলে সরকারের হুঁশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে আল জাজিরায় যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা শিউরে ওঠার মতো। যে ধরনের অপরাধ চক্র গড়ে ওঠার দাবি সেই প্রতিবেদনে করা হয়েছে এবং সেখানে যাদের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে, তা রীতিমতো আতঙ্ক জাগানিয়া। সরকারকে বলব, হয় আল জাজিরার বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করুন, না হয় পদত্যাগ করুন।’

 

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘প্রতিবেদনের সব দাবির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর অনেক সমীকরণের বাস্তবতা আছে। বিশেষত বিগত দুই দুইটা জাতীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সমীকরণের বাস্তবতা দেশের মানুষ নিজ চোখেই দেখেছে।’

 

তিনি বলেন, ‘নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু সরকারগুলো হরহামেশাই নানা অপকৌশলে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। যা স্পষ্ট স্বাধীনতার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ‘

 

চরমোনাই পীর বলেন, এ ধরনের একটি রিপোর্টে জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত ও অপমানিত। দেশের মান মর্যাদা বলতে কিছু নেই। বিশ্বে আমাদের চরমভাবে হেয় করা হয়েছে।’

 

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ— এমন দাবি করে রেজাউল করীম বলেন, ‘মানুষের নাগিরক ও ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। সরকার নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচনে জাতি আবারও অবাক বিস্ময়ে দেখেছে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা কীভাবে ভোট দিয়েছে। সরকার মানুষের জান, মাল, ইজ্জত-আব্রু নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এভাবে তামাশার নির্বাচন না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের প্রার্থীদেরকে তার দফতর থেকে ঘোষণা দিয়ে দিলে দেশ ও জাতির টাকা পয়সা এবং জানমাল রক্ষা হতো।’

 

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিজয় ও স্বাধীনতার ৫০ বছর; দুর্নীতিমুক্ত টেকসই উন্নয়ন ও নীতি নৈতিকতায় সমৃদ্ধ ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’।

 

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *