ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর চল্লিশকাহনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন একই স্থান ও সময়ে বিবাদমান দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এক পক্ষ বার্ষিক মাহাফিলের আয়োজন করলে প্রতিপক্ষরা মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ঘোষনা দিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এদিকে একপক্ষ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন মাহাফিলের অনুমতি না দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চল্লিশকাহনিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাও: সাইফুল ইসলাম ও দলিল লেখক সগিদুল ইসলাম হাওলাদারসহ স্থানীয় একটি পক্ষ ১৬ ডিসেম্বর আছরবাদ বার্সিক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে। স্থানীয় বেলায়েত হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিরকে প্রধান অতিথি, ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন হাওলাদার সরুমিয়াকে বিশেষ অতিথি ও চরমোনাইয়ের কয়েকজন আলেমকে বক্তা করা হয়।
অন্যদিকে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিনে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত, বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর মামলার আসামীসহ একটি চক্র ওয়াজ মাহফিলের নামে মোটা অংকের চাদাবাজী চালায়। এমন কি রাজাপুর চল্লিশকাহনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি না নিয়ে মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ করে ১৬ ডিসেম্বর মাহফিল বন্ধ রাখার আবেদন করেন।
এ বিষয়ে মাফিলের আয়োজক চল্লিশকাহনিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাও: সাইফুল ইসলাম জানায়, স্থানীয় যুবসমাজ আমাদের নিয়ে মাহফিলের আয়োজন করেছে। তবে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা আমি জানিনা।
ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন হাওলাদার সরুমিয়া বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান হবে সকালে ও ওয়াজ মাহফিল হবে বিকালে তাতে তো কোন সমস্যা নেই। আসলে স্থানীয় একটি কুচক্রি মহল ধর্মীয় অনুষ্ঠান ওয়াজ মাহফিল বানচালের জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান খান জানান, মাহফিলের অনুমতি জেলা প্রশাসক মহোদয় দেন তাই এটা আমি নিশ্চিত বলতে পারবোনা। আমার কাছে একটা অভিযোগ এসছিল, এটা নিয়ে আমি চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে আলাপ করেছি। তবে সর্বশেষ অবস্থা কি আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবো।
