যে যেভাবে পারছেন সমাবেশস্থলে আসছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

মালিক সমিতি ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি’র সমাবেশের আগের দিন থেকে বন্ধ থাকবে বাস। কিন্তু বাস বন্ধ হয়ে যায় তারও একদিন আগে। গতকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় লঞ্চ চলাচল। বন্ধ মাইক্রোবাস ও তিন চাকার যানবাহনও। বিএনপি’র সমাবেশের একদিন আগেই পুরো বিচ্ছিন্ন বিভাগীয় শহর বরিশাল।

অবরুদ্ধ নগরীর প্রবেশ পথে পুলিশের সতর্ক টহল-চেকপোস্ট। পাশের জেলাগুলোতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক চোখ। এমন অবস্থায়ও থামিয়ে রাখা যায়নি জনস্রোত। এর আগের বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের একদিন আগেই সমাবেশস্থলে অবস্থান করতে দেখা গেলেও বরিশালে দেখা গেছে অন্যরকম এক দৃশ্য।

আজকের সমাবেশে যোগ দিতে দুইদিন আগেই বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা হাজির হন বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে। রিকশায়, বাইসাইকেলে, মোটর বাইকে, ভ্যানে, ছোট নৌকায় করে মানুষজন ছুটে এসেছেন সমাবেশে যোগ দিতে। তাদের অনেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন রাত্রী যাপনের উপকরণ।

শুকনা খাবার, পানিও বহন করেন সঙ্গে। সমাবেশের একদিন আগে গতকাল বিকালেই উদ্যান পূর্ণ হয়ে যায় নেতাকর্মীতে। সেখানে তারা মিছিল-স্লোগানে নিজেদের উপস্থিতি জানান নেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, লাগাতার লোডশেডিং, দুর্নীতি, লুটপাট, মামলা-হামলা, গুম-হত্যা, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় গণসমাবেশ ডেকেছে বিএনপি। সমাবেশকে ঘিরে বরিশালে প্রায় এক যুগের বেশি সময় পর প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বিএনপি।

এদিকে গণপরিবহন ও লঞ্চ বন্ধ থাকলেও সমাবেশ সফল করতে পিরোজপুর, ঝালকাঠী, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে যে যেভাবে পারছেন নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসছেন।

পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বাধ্য হয়ে ঠান্ডার মধ্যে রাতে ট্রলারে করে সমাবেশস্থলে পৌঁছেছি। না খেয়ে ও না ঘুমিয়ে সমাবেশস্থলে অনুষ্ঠান সফল করতে অপেক্ষা করছি।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, ধর্মঘটের কারণে পিরোজপুর থেকে বরিশালে আসার কোনো গাড়ি পাইনি। পরে হেঁটে, ট্রলারে ও ভেঙে ভেঙে সমাবেশস্থলে যোগ দিয়েছি। আমাদের সমাবেশ নষ্ট করতে ধর্মঘটের নামে নাটকীয় এমন উদ্যোগ আসলেই কোনো দরকার ছিল না। তবে এত কিছুর মধ্যেও বরিশালে এক যুগের বেশি সময় পরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বিএনপি।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সিয়াংসু সরকার কুট্টি বলেন, আমাদের জেলার নেতৃবৃন্দ ধর্মঘটের কারণে পথে পথে অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বাধা দিয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *