মোবাইলে ইউটিউব ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ ইউটিউবে কৃষি বিষয়ক ভিডিও দেখতে গিয়ে জানতে পারেন ব্ল্যাক কুইন তরমুজের বিষয়ে। উদ্যোগ নেন ব্ল্যাক কুইন তরমুজ চাষের। এতে সফলতাও পেয়েছেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকার আরও কয়েকজন যুবক ব্ল্যাক কুইন তরমুজ চাষ করেছেন।
বলছিলাম মোফাজ্জল হোসেনের কথা। তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের সফির উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। মুদি দোকানের পাশাপাশি তিনি নিজ জমিতে চাষাবাদ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোফাজ্জলের জমিতে ছোট ছোট মাচায় ঝুলছে কালো রঙের নানা আকৃতির তরমুজ। তার তরমুজ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই তরমুজের ভেতরটা লাল টকটকে, খেতে খুবই মিষ্টি। তাই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররাও তরমুজ কিনতে ছুটে আসছেন তার কাছে। জমি থেকেই বিক্রি হচ্ছে তরমুজ।
দেশে সচরাচর গ্রীষ্মকালে তরমুজের ব্যাপক আবাদ হয়। তবে ওই এলাকার কেউই গ্রীষ্মকালে তরমুজ চাষ করেন না। গত বছর অল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মোফাজ্জল ব্ল্যাক কুইন তরমুজের কয়েকটি গাছ রোপণ করেন। তরমুজের ফলন ভালো হওয়ায় এবার বাণিজ্যিকভাবেই তিনি এই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন।
আশানুরূপ সাফল্যও পেয়েছেন মোফাজ্জল। অসময়ে তরমুজের ভালো ফলন দেখে খুশি তার পরিবার ও এলাকাবাসী। সঠিক পরিচর্যা ও দেখভালের কারণে ভালো ফলন হয়েছে।
তরমুজ চাষি মোফাজ্জল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন তিনি কৃষি কাজের সঙ্গেই জড়িত। গত বছর মোবাইলে ইউটিউব ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ ব্ল্যাক কুইন তরমুজ চাষের পদ্ধতি দেখতে পান। সেখান থেকে চাষ পদ্ধতি দেখে গত বছর পরীক্ষা করার জন্য কয়েকটি গাছ রোপণ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবার বাণিজ্যিকভাবে ৭০ শতাংশ জমিতে ব্ল্যাক কুইন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। সবমিলিয়ে তিনি এবার আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। তাতে লাভ হবে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, চলতি বছর পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১০ বিঘা জমিতে ব্ল্যাক কুইন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে। এই জাতের তরমুজ চাষ করে কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এ জাতের তরমুজ চাষ হবে। মোফাজ্জল হোসেনের মতো যুবকদের সফলতা দেখে অন্যরাও আধুনিক কৃষিতে এগিয়ে আসবেন।
