কলেজ শিক্ষিকার মৃত্যু: স্বামী মামুন আদালতে

নাটোরে শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় আটক স্বামী মামুন হোসেনকে আদালতে নেয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে তাকে আদালতে আনা হয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় মামুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তাকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মেদ বলেন, ‘মামুন হোসেনকে আদালতের হাজতে রাখা হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে তাকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. মোসলেম উদ্দীনের আদালতে তোলা হবে।’

আট মাস আগে নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খাইরুন নাহার ভালোবেসে শহরের নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মামুন হোসেনকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

তারা দু’জন শহরের বলারিপাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। এরই এক পর্যায়ে রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে সেই ভাড়া বাসা থেকে খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী মামুন হোসেনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

রোববার দুপুরে সিআইডির সুরতহালের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার স্থানীয় আবু বকর সিদ্দিকী কওমী মাদ্রাসা মাঠে জানাযা শেষে খামার নাচকৈড় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় খাইরুন নাহারের চাচাতো ভাই সাবের উদ্দিন রোববার রাতে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

নাটোর সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, রোববার বিকেলে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। ওই সময় মরদেহের গলায় একটি দাগ ছাড়া অন্য কোনো জখম বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামিউল ইসলাম শান্ত বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ভিসেরা রিপোর্টের জন্য আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। থানার সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, এটা আত্মহত্যা। তবে ভিসেরা রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *